অবশেষে গাইবান্ধার সেই অচেনা প্রাণীটি চিহ্নিত!

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর সেই অচেনা প্রাণীটি শিয়াল বলে চিহ্নিত করেছে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। এই অচেনা প্রাণীটি শনাক্তের জন্য ঢাকা থেকে তিন সদস্যের একটি বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ দল মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থলে যান।

বিশেষজ্ঞ দলের কর্মকর্তারা হলেন- মো. কামরুদ্দীন রাশেদ, মাহাবুব-ই-খোদা জুয়েল ও গাজী সাইফুল তারিক। তারা মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার (৩ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত সেইসব গ্রাম ঘুরে দেখেন, তারা আক্রান্ত লোকজনের বর্ণনা শোনেন।

ঢাকা থেকে আসা দলের সঙ্গে কাজ করেন রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পাঁচজন কর্মকর্তারা। তারা হলেন- রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রাহাত হোসেন,

বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির, ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার মোহাম্মদ হেলিম রায়হান, জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফস্কাউট সোহেল রানা ও বন প্রহরী লালন উদ্দিন প্রমুখ। দল দুটিকে সহায়তা করে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’।

তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. জিসান মাহমুদ বলেন, ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল গত দুদিন আক্রান্ত লোকজনের এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। তারা প্রাণীটির পায়ের ছাপসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন।

বিশেষজ্ঞ দলের বিশ্লেষণ মতে এটি কোনো অপরিচিত প্রাণী নয় এবং বিশেষজ্ঞ দল এটিকে শেয়াল হিসেবে চিহ্নিত করেন। বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তীর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. রাকিবুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. রিফাত হাসান,

তীর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সদস্য আলী আজম, মোনারুল ইসলাম, হরিনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। এলাকাবাসী জানান, গত দেড়মাস আগে পলাশবাড়ী উপজেলার ছয়টি গ্রামে অচেনাএই প্রাণীর আক্রমণ শুরু হয়। গ্রামগুলো হচ্ছে তালুক কেঁওয়াবাড়ি, হরিণাথপুর, কিশামত কেঁওয়াবাড়ি, খামার বালুয়া, দুলালেরভিটা ও তালুকজামিরা। এই সময়ে এই প্রাণীর আক্রমণে হরিনাথপুর গ্রামের ফেরদৌস সরকার (৫৬) নামের একজনের মৃত্যু এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *