আমার লজ্জা লাগে, বাসায় গিয়ে আমার মেয়ের দিকে তাকাতে পারি না: শামীম ওসমান

সদ্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসানের ভাইরাল বিতর্কিত বক্তব্য প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘রাজনীতিতে ঝগড়া-বিবাদ থাকতে পারে মান-অভিমান থাকতে পারে এটা সারা পৃথিবীতেই আছে।

কিন্তু ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে মা-বোনদের নিয়ে কথা বলা এবং মৃত মানুষকে অসম্মান করা, তারা আর যে কেউ হোক তারা রাজনীতিবিদ না। আজকে আমরা সবাই মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছি এবং অনেকেই ভাবছে ক্ষমতা চিরস্থায়ী। কিন্তু কোনো কিছুই চিরস্থায়ী না।’

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মরহুম আলী হোসেন আলার স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী প্রসঙ্গে শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘ইদানিংকালে কিছু ঘটনা ঘটলো তাতে আমার লজ্জা লাগে। আমি বাসায় গিয়ে আমার মেয়ের দিকে তাকাতে পারি না। কারণ যে কাজটা করেছে সে আমার দলের প্রতিমন্ত্রী। এটা আগে দেখি নাই, আমি এটা শুনিও নাই এবং বুঝিও নাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেউ রাজনীতি করে মানুষের জন্য আর কেউ রাজনীতি করে নিজের জন্য। যারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে তারা একটি মহৎ কাজ করে। তারা যে দল করুক না কেন, আওয়ামী লীগ করুক, বিএনপি করুক কিংবা জাতীয় পার্টি করুক বা হেফাজত করুক।

যে দলেরই হোক না কেন সে মানুষের জন্য করে। আবার কারো পদ-পদবী নাই এমন লোকও মানুষের জন্য কাজ করে। যারা নিজের জন্য রাজনীতি করে তারা বিভিন্ন সময় রং বদলায়। তারা এক এক সময় এক এক চরিত্র ধারণ করে। আমার মনে হয় এটা সবচেয়ে ঘৃণ্য কাজ।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘অনেকেই দেখতাছি অহংকার-দম্ভ দেখাচ্ছেন। ছোট ছোট জায়গায় বসে বড় বড় কথা বলছেন। বেশিদিন টিকবেন না। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পচ্ছন্দ করেন তাই ধৈর্য ধরে আছি। বয়স হয়ে গেছে।

প্রতিদিন ভাবি আজকেই আমার শেষ দিন, আজকের রাতটা শেষ রাত। তাই যে কয়দিন বেঁচে আছি কোনো দম্ভ বুঝি না, শেষটা দেখি। অন্তত ভালো না করতে পারি মাঝখান দিয়ে খারাপ যাতে না হই। চেষ্টা করছি কাজগুলো করার। বাবা-মায়ের দোয়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনার উছিলায় যেসব কাজগুলো আছে তা শেষ করার।’

কাউন্সিলর আলার স্মরণে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে অবাক লাগতেছে আমি কেন এ জায়গায় দাঁড়িয়ে আলার জন্যে শোক প্রকাশ করছি? ও কেন চলে গেলো? হয়তো ওর সময় এতটুকু ছিল। কোনো অহংকার ছিল না ওর মাঝে। এখন ওর জন্যে আমাদের দোয়া করা ছাড়া কিছু করার নেই। ওর জন্য দোয়া সবাই দোয়া করেন আল্লাহ যেন ওকে বেহশত নসিব করেন। খুব কষ্ট লাগে আমার কাছে মানুষ চলে যাওয়ার পর সবাই ভুলে যায়, এত স্বার্থপর কেন আমরা! এত স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছি যে আলার সন্তানরা ভাবছে তারা অসহায়। বাচ্চারা কেন ভাববে যে তারা অসহায়? মনে রাখবেন যে অন্যকে মনে রাখে না আগামীকাল তাকেও কেউ মনে রাখবে না। এটাই দুনিয়ার নিয়ম। ওর স্ত্রী সন্তান যারা আছে তারা যেন অসহায় না ভাবে। সবাই ওদের মাথায় হাত রাখবেন।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *