একটি কেন্দ্রেও পাশ করতে পারেননি নৌকার প্রার্থী

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলাম সাগর জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনে হাতপাখার প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন তিনি।

একটি কেন্দ্রেও পাশ করতে পারেননি তিনি। এমন পরাজয়ের কারণে মনোবল ভেঙেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। এতে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট পাননি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলাম। ফলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেছেন, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটে হেরেছেন নৌকার প্রার্থী। নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে নৌকার পক্ষে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ছিল কঠোর অবস্থানে।

তবে ভোট গ্রহণের আগের দিন রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকা ছিল একেবারে উত্তপ্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অস্ত্রসহও আটক হয়েছে দুইজন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা এবং নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছিল নৌকার কর্মীদের বিরুদ্ধে।

প্রচার-প্রচারণা চলাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা নেতা এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার পৌরসভা ও জেলার বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানরা নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করলেও

ভোট গ্রহণের দিন তাদের কারো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। ভোটের দিন পূর্বের দেওয়ার বক্তব্যের কোনো প্রভাব পড়েনি ভোট কেন্দ্রে। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারণ হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের দুষলেন নৌকা প্রার্থী নুরুল ইসলাম।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে চরকাদিরা ইউনিয়নের ১৮ হাজার ৩৭৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৩ হাজার ১২০ জন ভোট ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ও

বর্তমান চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক আরেক চেয়ারম্যান আশ্রাফ উদ্দিন রাজন রাজু মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯৭ ভোট।নুরুল ইসলাম সাগর নৌকা প্রতীকে ১ হাজার ৫১৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। তিনি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১০ কেন্দ্রের মধ্যে কোনটিতে পাশ করতে পারেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইব্রাহিম বাবুল মোল্লা চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৪১ ভোট।

সাবেক বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হোসেন হাওলাদার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৬৫ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী অটোরিকশা প্রতীকের শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ২৮৪ ভোট এবং ঘোড়া প্রতীকে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৭৮ ভোট। নির্বাচনের বিজয়ী চেয়ারম্যান এবং দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়া নৌকার প্রার্থীসহ ৫ জন জামানত হারিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জায়েদুল হোসেন চৌধুরী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী ওই ইউনিয়নের প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ না পেয়ে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে অনুযায়ী চরকাদিরা ইউপিতে ১ হাজার ৬৪০ ভোটের নিচে যারা পেয়েছেন, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৭ জনের মধ্যে নুরুল ইসলাম সাগর, ইব্রাহিম বাবুল, হোসেন হাওলাদার, শরিফুল ইসলাম ও মহিউদ্দিন জামানত হারিয়েছেন।দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শক্ত অবস্থানে থাকায় পুরোপুরি পরাজয় বরণ করতে হয়েছে নৌকার প্রার্থীকে। এমন পরিস্থিতির জন্য উপজেলার শীর্ষ নেতারা দায়ী। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে। নির্বাচনের এমন ফলাফল প্রভাব পড়েছে পুরো উপজেলায়। আগামী সংসদ নির্বাচনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে হেরে যাবার কারণ হিসেবে নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলাম সাগর বলেন, উপজেলা নেতারা দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে সরিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই নৌকার পরাজয় হয়েছে। কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম নুরুল আমিন মাস্টার বলেছেন, নৌকাকে জয়ী করতে আপ্রাণ চেষ্টা ছিল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *