আইজিপিকে পাঁচ নির্দেশনা

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপিকে) নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব শাহে এলিদ মাইনুল আমিন নির্দেশনাটি সম্প্রতি পাঠিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে- আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

(ক) আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মােতায়েনের পরিকল্পনা; (খ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা; (গ) নির্বাচনী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ;
(ঘ) আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মােতায়েনের লক্ষ্যে অগ্রিম বাজেট প্রণয়ন; (ঙ) অবৈধ অনুপ্রেবেশকারীদের নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুতকরণ।

একই নির্দেশনা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক, আনসার ও ভিডিপি-এর মহাপরিচালক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকেও দেওয়া হয়েছে।

১৪ জানুয়ারি থেকে মাঠে নামবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তারা ভোটের দু’দিন পর পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর এক আধা সরকারি পত্রের মাধ্যমে নির্দেশনাগুলো দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে অনুরোধ করছে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। তার পরিপ্রক্ষিতেই এমন নির্দেশনা এসেছে মন্ত্রণালয় থেকে।

এ সিটির ২৭টি ওয়ার্ডের ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৯২টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৩৩৩ ভোটকক্ষে।

নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৩৪ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন।

মেয়র পদে ছয়জন প্রার্থী হলেন- খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, স্বতন্ত্র থেকে বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাও. মো. মাছুম বিল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস এবং আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সিটিতে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর। সে সময় প্রার্থীরা প্রচারের জন্য সময় পেয়েছিলেন ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত, মোট ১৬দিন। আর এবার ভোটগ্রহণ হবে ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি। প্রচার শুরু হয়েছে ২৮ ডিসেম্বর, আর শেষ হবে ১৪ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টায়। অর্থাৎ এবার প্রার্থীরা প্রচারের জন্য সময় পেয়েছেন ১৮দিন।

২০১১ সালে সিটি করপোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরুর পর এবার হচ্ছে তৃতীয় নির্বাচন। প্রথমবার নয়টি ওয়ার্ডে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম), বাকিগুলোতে ব্যালট পেপারে ভোট হয়। ২০১৬ সালে সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে এবং এবার ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

প্রথমবার নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হয় এ সিটিতে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন চালুর পর এটি দ্বিতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *