নতুন ইসি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরও দুই বছর বাকি আছে। কিন্তু এর মধ্যেই নির্বাচন নিয়ে নানা মুখী তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে কূটনৈতিক অঙ্গনেও আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা রকম বৈঠক ও আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে যে, তারা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশের ভোটাধিকার প্রয়োগে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকবে।

এই বিবৃতির পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, নির্বাচন নিয়ে কূটনৈতিক পাড়ার একটি তৎপরতা রয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, নির্বাচন নয়, আসলে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়েই তৎপর রাজনৈতিক দলগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ পশ্চিমা কূটনৈতিক গুলো।

নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর নির্বাচন কমিশন যদি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রথম ধাপ পূর্ণ হয় বলেই মনে করছেন কূটনৈতিকরা।

আর এজন্যই নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে তারা তৎপর হয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক আলাপ আলোচনা চলছে বলেও জানা গিয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, কূটনৈতিকরা চাচ্ছে যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন যেন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং সকলের কাছে আস্থাভাজন ব্যক্তিকে দিয়েই নির্বাচন কমিশনটা গঠন হয়,

যেন নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যতে বিতর্কের ক্ষেত্রটা কমে যায়। বিগত নির্বাচন কমিশন নিয়ে অন্তহীন অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো সহ কূটনৈতিকরা এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে সন্তুষ্ট নয়।বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা এবং নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করেন কূটনৈতিকরা। আর এ কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা কথা বলছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে যে, ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ আলোচনা করছে। তারা সরকারের মনোভাব জানার চেষ্টা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলা দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। তারা এই নির্বাচন প্রক্রিয়া করতে চাচ্ছে সার্চ কমিটির মাধ্যমে। এই সার্চ কমিটি হবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে। সার্চ কমিটির একটি অবয়বও তৈরি করা হয়েছে, যাতে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে সার্চ কমিটির প্রধান রাখা হতে পারে এবং একটি সদস্য সচিব থাকবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এছাড়াও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের থেকে একজন এবং সাবেক প্রশাসনের মধ্য থেকে একজনকে রাখা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু বিরোধী দল মনে করছে সার্চ কমিটি একটি আই ওয়াশ। আসলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারগণ নির্বাচিত হবে সরকারের অভিপ্রায় অনুযায়ী। সরকার যাকে ইচ্ছে করবে তাকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিবে। সার্চ কমিটি সরকারের একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কাজ করবে। তবে, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাই এই বক্তব্য অস্বীকার করেছেন। তারা মনে করছেন যে, সার্চ কমিটির মাধ্যমে একজন আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে পছন্দ করার সুযোগ তৈরি হবে। পশ্চিমা কূটনৈতিকরা মনে করছেন বাংলাদেশে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাস্তবতা আর নেই। আর এ কারণে তারা বিএনপির সাথে কথা বলছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে তারা যেন ভূমিকা রাখে, মতামত দেয় এজন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত,
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য মনে করে বাংলাদেশে একটি স্বাতন্ত্র্য স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারে। আর এ কারণেই এই নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক ঐক্যমত চাইছে তারা। এর ফলে বিএনপি পশ্চিমা কূটনৈতিকদের উদ্যোগকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন যে, তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। বিএনপির নেতারা এটাওমনে করেন যে,নির্বাচন কমিশন যতই নিরপেক্ষ হউক না কেন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যে সুষ্ঠু সম্ভব না এটা অতীতে প্রমাণ হয়েছে। যদিও এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিকরা রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে একটি ঐক্যমতে আনতে পারেন কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *