নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ ৪ পরিবর্তন

নির্বাচনের এখনো দুই বছরের বেশি সময় বাকি, কিন্তু এর মধ্যেই দেশে একটি নির্বাচনের আমেজ তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি যেমন তার দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্র’স্তুতি নেয়ার কথা বলেছেন।

তেমনি বিএনপি আগামী নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হলে তারা মেনে নিবেন সে স’ম্পর্কে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আওয়ামী লীগের পাল্টা জবাব হিসেবে বিএনপি বলেছে এবার নির্বাচন নিয়ে খেলা হতে দেওয়া যাবে না।

নির্বাচন কি প্রক্রিয়ায় হবে বা কি হবে ইত্যাদি পরের বিষয়, তবে নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চারটি বড় ধরনের পরিবর্তন হবে বলে জানা গেছে।

এই পরিবর্তনগুলো নির্বাচনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যু’ক্ত। নির্বাচনের আগে যে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন হবে তার মধ্যে রয়েছে:১. নির্বাচন কমিশন: আগামী ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। চলতি স’প্তাহেই নতুন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি গঠন করতে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর রাজনৈতিক অ’ঙ্গনে এটি নিয়ে কিরকম মেরুকরণ হয় সেটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানা গেছে।

২. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বর্তমান রা’ষ্ট্রপতি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতি পরপর দুবার বেশি নিজ পদে থাকতে পারে না। আর তাই এই বর্তমান মেয়াদেই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ, আর এই মেয়াদ শেষ হবে ২৩ এপ্রিল ২০২৩ অর্থাৎ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে। কাজেই নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকারকে নূতন একজন রাষ্ট্রপতি ঠিক করতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচনকালীন সময় রাষ্ট্রপতি পদটি অ’ত্যন্ত গু’রুত্বপূর্ণ হয়ে যায় এবং নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন সেদিক থেকে রাজনীতির অনেক হিসাব-নিকাশ নির্ভর করে।৩. মন্ত্রীপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব: ম’ন্ত্রীপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব দুজনই দুই বছরের ‘চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আছেন এবং আগামী ২৩শে জানুয়ারি তে দুজনেরই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। প্রশ্ন হচ্ছে যে মন্ত্রীপরিষদ সচিব এবং মুখ্যসচিবকে কে কি আবারো নির্বাচনকালীন পর্যন্ত চু’ক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হবে।নির্বাচনের মাত্র এক বছরের কম সময় আগে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ দুটিতে নতুন মুখ আনা হবে নাকি যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদেরকে রাখা হবে। কারণ নির্বাচনে প্রশাসন একটি বড় ফ্যাক্টর এবং সেখানে মন্ত্রী পরিষদ সচিবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তাই প্রশ্ন উঠেছে যে ম’ন্ত্রীপরিষদ সচিব নির্বাচনের আগে পরিবর্তন হবে কিনা আর সেক্ষেত্রে নতুন মন্ত্রীপরিষদে কে হবেন সেটিও গু’রুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ মন্ত্রীপরিষদ সচিব নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনে মুখ্য ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।৪. আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক: এটা নিশ্চিত যে নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগ একটি কাউন্সিল অধিবেশন করবে এবং কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ একজন নতুন সাধারণ সম্পাদক উপহার দিতে যাচ্ছে তা মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এখন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন, তৃতীয় মেয়াদে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলেই আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাকর্মীরাই মনে করেন। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাবে নতুন একজন সাধারণ সম্পাদকদের নেতৃত্বে। নির্বাচনকালীন সাধারণ সম্পাদক নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মোকাবেলা করা এবং দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সাধারণ সম্পাদক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। আর এটির উপরও নির্ভর করে নির্বাচনের অনেক কিছু।তাই দেখা যাচ্ছে যে নির্বাচনের আগে অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ আসতে হবে। আর এই নতুন মুখরা নির্বাচনের স্বল্পতম সময়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আগামী সংসদ নির্বাচনে।
সূএ:BANGLA INSIDER

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *