নৌকা প্রতীক ছাড়াই ভোট যে উপজেলায়

সারাদেশে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকার দল থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নেতাকর্মীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও ব্যতিক্রম এক চিত্র দেখা গেছে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৫ নং বিনাইল ইউনিয়নে।

তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর এ ইউপিতে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক ছাড়াই এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্বচ্ছ প্রার্থী না থাকায় এবং গেলো নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করায়

এবার দলীয় কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের। বিরামপুর উপজেলার নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেনি।

ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, চশমা প্রতীক নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হামিদুর রহমান ও আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন হুমায়ুন কবির বাদশা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫ নং বিনাইল ইউপিতে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় মো. আব্দুর রউফ মিন্টুকে।

দলের শৃঙ্খলা ভেঙে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হামিদুর রহমান। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম অবুল ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ মিন্টুকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম জয় লাভ করেন।

এবার কেন নৌকা প্রতীক চাননি এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সদস্য ও নৌকার সাবেক প্রার্থী আব্দুর রউফ মিন্টু বলেন, গতবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। সেই সময় দলের দেওয়া প্রতীকের বিরুদ্ধে দুজন কাজ করায় আমি হেরে গেছি। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আমি এবার নৌকা প্রতীকের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে আবেদন করিনি।

বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু আরটিভি নিউজকে বলেন, এবার ওই ইউনিয়ন থেকে দুজন নৌকা প্রতীকের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে আবেদন করেছিলেন। তারা দুজনই গতবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করায় এবার তাদের নৌকা প্রতীকের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে এবার ওই ইউনিয়নে দলীয় কোনো প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, এই ইউনিয়নের ১৬ হাজার ২৭২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন আগামী ২৮ নভেম্বর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *