নৌকা ভরাডুবি, এক নজরে ফলাফল

যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের কারণেই নৌকার ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ২ টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হয়। ১১ নভেম্বরের ভোটে বাকি ৯টির মধ্যে ৩টিতে নৌকার প্রার্থী এবং ৬ টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

উপজেলার ২ নং পাশাপোল ইউনিয়নে নৌকার অবাইদুল ইসলাম সবুজ ৭ হাজার ৬ শ ৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতলেব পেয়েছেন ২ হাজার ৬শ ১০ ভোট।

৩ নং সিংহঝুলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হামিদ মল্লিক ৪ হাজার ৫ শ ১০ ভোট পেয়েছে বেসরকারিভাবে বিজয় লাভ করেছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার রেজাউর রহমান রেন্দু পেয়েছে ১ হাজার ৫ ৮৭ ভোট। ৪ নং ধুলিয়ানি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম মোমিনুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আলাউদ্দীন এবং নৌকার আব্দুস সবুর তৃতীয় হয়েছেন। জগদিশপুর ইউনিয়নে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার সিরাজুল ইসলাম ৪ হাজার ৭ শ ২৪ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার তবিবর রহমান খান পেয়েছেন ৪ হাজার ৮২ ভোট।

পাতিবিলা ইউনিয়ানে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে নৌকার তারিকুল ইসলাম পরাজিত হয়েছেন। হাকিমপুর ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুল হাসান বেসরকারিভাবে বিজয় লাভ করেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার মামুন কবির। স্বরুপদা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে বিদ্রোহী নুরুল কদর বিজয় লাভ করেছেন।

নুরুল কদর পেয়েছেন ৪ হাজার ৩ শ ৬০ ভোট। নৌকা পেয়েছে ৪ হাজার ৩৯ ভোট। নারায়ণ পুর ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীকে তরিকুল ইসলাম ডবলুকে হারিয়ে নৌকার শাহিনুর রহমান শাহিন বিজয় লাভ করেছেন। সুকপুকুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাস্টার নুরুল ইসলামকে পারাজিত করে নৌকার বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান হবি বিজয় লাভ করেছেন।

নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন ১০ হাজার ৫ শ ৫৪ ভোট, এবং বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়েছেন ৫ হাজার ৪ শ ৪৩ ভোট। নৌকার বিজয় মোটামুটি নিশ্চিত থাকলেও বিদ্রোহীর কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হারল আওয়ামী লীগ। তৃণমূল নৌকার ভোটাররা এমনটা মনে করছেন। প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল করায় এমনটি হয়েছে বলে দাবি করেছেন

এদিকে যশোরের ঝিকরগাছায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়েকটি ইউনিয়নে বেশকিছু অনিয়মের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনু্ষ্িঠত হয়েছে। উপজেলার নাভারণ, শংকরপুর ও গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন এসব অনিয়মের ঘটনা ঘটে। বাকি ইউনিয়নগুলো মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল উপজেলার এগারোটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের আট ও বিদ্রোহী প্রার্থী তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আমিনুর রহমান। মাগুরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আব্দুর রাজ্জাক, শিমুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মতিয়ার সর্দার, ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আমির হোসেন।

নাভারণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শাহজাহান আলী নির্বাচিত হয়েছেন। গদখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী শাহজাহান আলী মোড়ল, পানিসারা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) জাকির হোসেন পিপুল, নির্বাসখোলায় আওয়ামী লীগের খায়রুজ্জামান, হাজিরবাগ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগে আতাউর রহমান মিন্টু, শংকরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের গোবিন্দ চন্দ্র চ্যাটার্জী,

বাঁকড়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র মাস্টার আনিস উর রহমান বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।এরআগে বিকেলে ১০নং শংকরপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন ভোট বর্জন করেন। ভোটের দিন সকালে ভোট কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রকাশ্যে ভোট জালিয়াতি এবং বোমা হামলাসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ এনে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি ভোট বর্জন করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *