প্রধানমন্ত্রীর এলাকা বলে খ্যাত! নেই কোনো নেতাকর্মীর অভাব , তবুও জনগণ এতো ক্ষিপ্ত কেন বুঝতে পারছি না: মোক্তার হোসেন

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। এ উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় ৭টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ৫টিতে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা।

মাত্র ২টি ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক জয়ী হয়েছে। পরাজিত ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও আসতে পারেননি। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মনে করছেন,

মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা, স্বজনপ্রীতি ও জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় এ হার হয়েছে। আর সাধারণ ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ধিক্কার জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপির সংসদীয় আসন-০১-এর আওতাধীন ৭ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

আর প্রেসিডিয়াম মেম্বার শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সংসদীয় আসন-০২-এর অন্তর্গত ৭ ইউনিয়নে নির্বাচন উন্মুক্ত রাথা হয়। দলীয় মনোনয়ন দেওয়া ৭ ইউনিয়নের মধ্যে কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী খোকনের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন নৌকার প্রার্থী মো. মশিউর রহমান খান।

এখানে মোহাম্মদ আলী খোকন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৯০৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আর মো. মশিউর রহমান খান নৌকা পেয়েছেন ৫৩৬৯ ভোট।

সাজাইল ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুবুল আলমের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহাবুবুল আলম মোটরসাইকেল প্রতীকে ৬৬১২ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কাজী জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩১০ ভোট।

পারুলিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীকে ২২৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিল্লাল হোসেন টেলিফোন প্রতীকে ১৬৪২ ভোট পেয়েছেন। মাহমুদপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক মিরাজ চশমা প্রতীকে ১৫১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাক আলী অটোরিকশা প্রতীকে ১৪৩৫ ভোট পেয়েছেন।

রাতইল ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আঞ্জুরুল ইসলাম আনারস প্রতীকে নৌকার প্রার্থী বি এম হারুন অর রশীদের চেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এখানে নৌকার প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল দেওয়ায় ৬ নম্বর রাতইল ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রটি ভোট গ্রহণ স্থগিত রেখেছে কমিশনে রিপোর্ট পাঠিয়েছে। মহেশপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে লুৎফর রহমান মিয়া ৪৬৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের আবুল বাসার মোল্লা পেয়েছেন ৩৮৪৪ ভোট।

রাজপাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে মিল্টন মিয়া ৪৩২৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেলিফোন প্রতীকে সাইফুল সরদার পেয়েছেন ২২৯৯ ভোট। উন্মুক্ত ৭ ইউনিয়নের ফুকরায় অটোরিকশা প্রতীকে শাহ ইশতিয়াক পটু বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সিংগা ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীকে রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নিজামকান্দি ইউনিয়নে টেলিফোন প্রতীকে

কাজী নওশের আলী বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পুইশুর ইউনিয়নে টেলিফোন প্রতীকে কামরুল ইসলাম সিকদার বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বেথুড়ী ইউনিয়নে চশমা প্রতীকে ইমরুল হাসান মিয়া বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। হাতিয়াড়া ইউনিয়নে চশমা প্রতিকে দেব দুলাল বিশ্বাস বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা সাথে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূলের মতামত না নিয়েই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

যে সব ব্যক্তিকে সাধারণ ভোটরা অপছন্দ করেন তাদের হাতে নৌকা তুলে দেওয়া হয়েছে। তাই সাধারণ ভোটরা ব্যালটের মাধ্যমে তাদের উচিৎ জবাব দিয়েছেন। কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, কাশিয়ানী ৭ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন সঠিক ছিল। কিন্তু নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কালো টাকার বিনিময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করে জয়ী হয়েছে। কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোক্তার হোসেন এ ব্যাপারে বলেছেন,

আমাদের নেতাকর্মীর অভাব নেই, কিন্তু জনগণ এতো ক্ষিপ্ত হলো কেন বুঝতে পারছি না। কিছুটা ব্যক্তি বাছাই ও কাজের গাফিলতি আছে বলে মনে হচ্ছে। আর আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থীদের স্থানীয়রা পছন্দ না হওয়ায় সম্ভাবত এ ভরাডুবি হয়েছে। এ বিষয়ে খুব শীঘ্র আমরা দলীয়ভাবে বসব এবং পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করবো বলেও তিনি জানান। কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে আওযামী লীগের ৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৫ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল ৪৯ জন। শুক্রবার বিকেলে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিতদের ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া যায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *