বিনোদনের মানুষ সবচেয়ে পাপী! পরীমনি ইস্যুতে নতুন করে যা বললেন আসিফ

সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতী নিয়ে সব সময়ই প্রতিবাদী চরিত্রে দেখা গেছে ‘বাংলা গানের যুবরাজ’খ্যাত সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে।

আজ এই গায়ক ফেইসবুকে পরীমনির একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন: ‘নায়িকা নয়, আজ মানুষ পরীমনির ছবি দিতে পেরে আমি গর্বিত।’ ফেইসবুক পোস্টে অভিমানে ক্ষো’ভ প্রকাশ করে বিনোদন জগতের মানুষদের ‘পা’পী’ উল্লেখ করে

তাদের শা’স্তি বিধানের জন্য দ্রুত বিচার ট্র্যাইবুন্যালের দাবি জানিয়েছেন এই শিল্পী। পাঁচ বছর আগে আজকের দিনে ভূমিকম্পের কথা উল্লেখ করে আসিফ পোস্টে লিখেছেন: ‘বছর পাঁচেক আগে সম্ভবত আজকের দিনেই ভ’য়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল দেশে।

একটু বেশীই কেঁপেছিলো আমার ম্যাচ বক্স টাইপ অফিসটা। দ্রুত সবাই বের হয়েছি চারতলা থেকে। এর মধ্যে একজন ভদ্রলোক মোজা পরছিলেন, তারপর জুতা পরার ফাস্টেস্ট চেষ্টা ছিল।

আমি একটু অবাক হয়ে ভাবলাম লোকটা টেনশন নিচ্ছে না কেন! পরে বুঝলাম একজন নিয়ম মানা লোক এই টাইপেরই হয়।’মাইন্ড সেট সবসময় পজিটিভ রাখি। কেউ মা’স্তানি করলে তিনবার সহ্য করি। উল্লেখ করে এই কণ্ঠশিল্পী অতীত জীবনের ইঙ্গিত দিয়েছেন স্ট্যাটাসে। লিখেছেন: ‘যৌবনের উত্তাল সময়ে হাতের তালুতে থাকা ক্ষমতাগুলোর অপব্যবহারের চেষ্টাও করিনি ভুলে। আজকাল তো শুনি মফস্বলের কিছু

নর্মাল ছাত্রনেতার হাজার কোটির নিচে আলাপ নাই। গানের লোকজন নাকি ভোলাভালা অভিমানী হয়, সঙ্গে বিনয় প্লাস!আমি অনুপ্রবেশকারী গায়ক। এলাকায় মস্তানী করার ছোটখাটো অভিজ্ঞতা এবং ক্ষমতাও ছিল একসময়। গানের লোক হিসেবে প্র’টোকল অনুযায়ী নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করি।

ফেরেশতা নির্ভর এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটু কম বুঝি। নিজের মত লেখালেখি করি। আগে একটু ডেসপারেড ছিলাম, এখন কন্ট্রোল মজনু কন্ট্রোল, এই ফরম্যাটে চলি।’ এর পরেই আসিফ তার স্ট্যাটাসের আসল উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছেন। অনেকটা অভিমানের সুরে লিখেছেন: ‘বিনোদনের মানুষ তো এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে পাপী আইটেম।

আমাদের জীবনটা আসলে যাত্রা প্যান্ডেলের মতই নিষিদ্ধ।’ ইঙ্গিত যে পরীমনি ইস্যু নিয়ে এই সংগীতশিল্পী সে কথা লুকাননি। স্ট্যটাসের পরের প্যাড়াতেই লিখেছেন: ‘এতো সমস্যা থাকলে নাটক গান সিনেমা কবিতা বন্ধ করে দেয়া হোক। দেশটাকে অন্ধকার করে দেয়া লু’টেরাগুলো আজ আলোকিত, মিডিয়া সাপোর্টও পাচ্ছে।

তথাকথিত এলিটদের বি’রুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে রাষ্ট্র যেন কেমন কেমন করে। পরীমনি হচ্ছে এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে ভ’য়ঙ্কর ক্রি’মিন্যাল। ক্ষমতার ভোগে আর ভাগে থাকা হারামী বাকি দেবপুত্রদের মা’মলায় কোনো প্রমাণই পাওয়া যাচ্ছে না। কোন পূর্ববর্তী মা’মলা না থাকলেও ইস্যুপ্রিয় মিডিয়ায় মুখরোচক আলোচনায় থাকেন শিল্পীরা।

আবার দেশের বৃহৎ সামাজিক জনগোষ্ঠী নিজেরটা বাদ দিয়ে অন্যের গোপন লিংক খোঁজায় ব্যস্ত থাকে। আমি অধম ভেবেই পাই না, দেশের সব ভালো মানুষের মাঝখানে এই সংস্কৃতির পাপী লোকজনকে কেন প্রকাশ্যে পিটিয়ে মেরে ফেলার আইন হয় না! ‘বিনোদনের মানুষদের দ্রুততম শা’স্তি বিধানের জন্য

দ্রুত বিচার ট্র্যাইবুন্যাল করা হোক। একবার আনন্দ নিবেন আরেকবার পৈশাচিক হয়ে যাবেন, এসব খেলা বন্ধ করুন। আইনের দৃষ্টি সব নাগরিকের জন্য সমান হওয়াটাই ন্যায়বিচার। লাগাতার ভূমিকম্প হচ্ছে আমাদের ভূমিতে, মোজা পরতে পারার সুযোগটাই আসল অর্জন।’ লিখেছেন বাংলা গানের যুবরাজ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *