মাত্রপাওয়াঃ ধর্মঘট প্রত্যাহার, বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল শুরু

পটুয়াখালীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন বাস মালিক ও শ্রমিকেরা। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) জেলার বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে গেছে।

এরআগে, বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিনি কনফারেন্স রুমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে বাস মালিকদের নিয়ে বসা বৈঠকে এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. রিয়াজ মৃধা।

মো. রিয়াজ মৃধা বলেন, কোনও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, টমটম, ভটভটি থ্রি-হুইলার মহাসড়কে চলতে পারবে না মর্মে, হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। এ নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহাদয়ের কাছে দাবি তুলেছি।

এখন মহাসড়কে এসব পরিবহন চলবে কিনা তা প্রশাসন জানে। অটোচালকের অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের যে ‘সময় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ ওটা প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছিল, এখন আবার তা চালু হবে। কিন্তু আমাদেরকে ওই কক্ষের আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরায় আনার নির্দেমনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অটোচালকদের সঙ্গে আমাদের কোনও দ্বন্দ্ব নেই। আইনে তারা মহাসড়কে গাড়ি চালাতে পারবে না। মহাসড়কে এসব গাড়ি চললে দুর্ঘটনা বাড়বে। আগে যে নিয়মে মহাসড়কে বাস চলাচল করতো সেভাবেই চলবে। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা বাস ধর্মঘট আর থাকছে না।

জেলা বাস মালিক সমিতির উপদেষ্টা মো. শামীম বলেন, আমরা অটোচালকদের হয়রানি করি না। তারা যাত্রী নিয়ে আমতলী ও কলাপড়া যেতে চায়, তখন আমরা বাধা দেই। তাছাড়া অটোচালকরা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নয়, যে কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

এ বিষয় জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হুমায়ূন কবিরের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।এর আগে, জেলার বসাক বাজার এলাকায় বাস মালিক সমিতির চেকপোস্টে অটোরিকশা ও অটোবাইক শ্রমিকদের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) মানববন্ধন করেন চালকরা। মানববন্ধনের খবর পেয়ে মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা বন্ধের দাবিতে পটুয়াখালীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের ডাক দেন বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীসহ কুয়াকাটাগামী পর্যটকরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *