যে কারণে গণপদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীদের

রাজশাহী মহানগর বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করা না হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

মহানগরীর শালবাগানে বিএনপির একটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু। এর আগে ৯ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব

রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১১ ডিসেম্বর এই আহ্বায়ক কমিটি রাজশাহী মহানগর বিএনপির আওতাধীন সব থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

এদিকে কমিটি বিলুপ্তির ঠিক একদিন পরেই রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক চারটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন,

কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সদ্য বিলুপ্ত বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু জানান,

রাজশাহী মহানগর বিএনপির আওতাধীন সব থানা ইউনিটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ রাজশাহী মহানগরের সব ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতারা এবং বিগত আন্দোলন সংগ্রামে নির্যাতন সহ্য করে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বুকে ধারণ করে দলীয় সব কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করে গেছেন। তারা বর্তমান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত ৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির মধ্যে ৫ জনের বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই মামুন একজন আওয়ামী লীগের এজেন্ট।

তিনি মহানগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল মোমিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কাজ করেছেন। তিনি রাজশাহী নিউমার্কেট, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাস টার্মিনাল ও রেলভবনে চিহ্নিত চাঁদাবাজ। এসব কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়,

রাজশাহীতে বিএনপিকে দুর্বল করতেই এ ধরনের বিতর্কিত কমিটি দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মহানগরের সব থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা এই বিতর্কিত আহ্বায়ক কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করছে। দলীয় বৃহৎ স্বার্থে নিষ্ক্রিয় আওয়ামী লীগ এজেন্টদের বাদ দিয়ে ত্যাগী জনপ্রিয় পরীক্ষিত নেতা দিয়ে নতুন মহানগর কমিটি গঠনের জন্য জোর দাবি জানান উপস্থিত নেতারা। অন্যথায় তারা গণপদত্যাগের হুঁশিয়ারি দেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সদ্য বিলুপ্ত রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত আলী,

মতিহার থানা বিএনপির সভাপতি আনসার আলী, শাহমখদুম থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদসহ রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক ৩৫টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি শালবাগানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শালবাগান এ অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।এদিকে নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন জানান, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। পূর্বের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং নিষ্ক্রিয় থাকায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ সম্পর্কে মামুন বলেন, যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো ভিত্তিহীন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *