রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে নিজের স্ত্রীকে নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নাম প্রস্তাব করলেন জাতীয় পার্টির নেতা

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে নিজের স্ত্রীকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নাম প্রস্তাব করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ১৯৮৩ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদেরকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। গত সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ডাকা সংলাপে জাপা নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন প্রণয়ন,

সার্চ কমিটির জন্য চারজনের এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একজনের নাম প্রস্তাব করেছে। জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের নামের তালিকা মুখবন্ধ খামে নামগুলো রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছেন, যা প্রকাশ করা হয়নি।

পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর স্ত্রী রোকসানা কাদেরের নাম প্রস্তাব করেছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছুই বলব না। রোকসানা কাদেরের নাম দিয়েছি কি দেইনি- তা বলা যাবে না।’

এদিকে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘দলীয় চেয়ারম্যানকে সার্চ কমিটি এবং ইসির জন্য নাম প্রস্তাবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি নামের তালিকা সরসারি রাষ্ট্রপতির হাতে দিয়েছেন, যা সম্পর্কে অন্যরা অবগত নন।’

এছাড়া সংলাপে অংশ নেওয়া জাপার এক কো-চেয়ারম্যান বলেন, ‘যার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ না দিলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সে কারণেই প্রস্তাবিত নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।’

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শুরু হয় গত সোমবার (২০ ডিসেম্বর)। রীতি অনুযায়ী প্রথম দল হিসেবে বঙ্গভবনে গিয়েছিল জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। সংলাপের জন্য সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের অন্যরা ছিলেন- সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা।কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। নতুন ইসি গঠনে গত সোমবার থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন রাষ্ট্রপতি। এরআগে ২০১২ এবং ২০১৭ সালে সংলাপ এবং সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠন করেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *