ভার্চুয়ালেই মামুনকে কড়া ধমক

ভার্চুয়ালেই মামুনকে কড়া ধমক

রাজনীতি: নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে নিয়ে বিতর্কের যেন শেষ হচ্ছে না। তিনি একের পর এক ঘটনায় জেলা বিএনপির নেতাদের কাছে আলোচিত সমালোচিত হয়ে আসছেন।

সবশেষ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে কোরআন নিয়ে কসম খাওয়ার কথা বলে বিতর্কিত হয়েছেন। সেই সাথে এই কসম খাওয়ার কথা শুনে তারেক রহমানও তার উপর ক্ষেপেছেন।

বিএনপির নেতাদের সূত্রে জানা যায়, ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অধীনে থাকা ৫টি থানা ও ৫টি পৌরসভায় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবদের নিয়ে

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রবেশের সময়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য শহীদুল ইসলাম টিটু সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হন মামুন মাহমুদের সঙ্গে থাকা শহীদউল্লাহ। ওই সময়ে মামুন দ্রুত প্রস্থান করেন।

আর এই বৈঠকের এক পর্যায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন বিএনপির কমিটি নিয়ে টাকা লেনদেনের অভিযোগ আসছে। আর এই কথা শেষ হওয়ার আগেই জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ বলতে থাকেন

আমি কোরআন নিয়ে কসম খেটে বলতে পারবো এসবের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি কারো কাছ থেকে এক কাপ চা খাইনি। আর একথা শোনার সাথে সাথে তারেহ রহমান ভার্চুয়ালেই মামুন মাহমুদের প্রতি ক্ষেপে যান।

সেই সাথে বলতে থাকেন আমি তো আপনাকে বলি নাই আপনি টাকা খেয়েছেন। আপনি কেন কসমের কথা বলছেন। এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপড় চড়াও হওয়ার ভয়ে অনেক দিন ধরেই মামুন মাহমুদ কর্মসূচিতে উপস্থিত হন না।

মামলার অজুহাত দিলেও একই মামলার আসামী হয়েও প্রায় প্রত্যেক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হাই রাজু ও টি এইচ তোফা অংশ্রগহণ করে যাচ্ছেন। কিন্তু মামুন মামুদ মাহমুদ আসামী হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে একের পর এক কর্মসূচিত থাকছেন।

সবশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন কর্মসূচি পালন করা হয়। সেই সাথে তারা একটি সংক্ষিপ্ত র‌্যালীও করেন। এখানেও অনুপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য মামুন মাহমুদ।

সেই সাথে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নাসির উদ্দীন লুৎফর রহমান আবদু ও নজরুল ইসলাম পান্না, সদস্য রিয়াদ মোঃ চৌধুরীর, রুহুল আমীন শিকদার, মোশাররফ হোসেন, শাহ আলম মুকুল, আশরাফুল হক রিপন, জুয়েল আহমেদ, দুলাল হোসেন, ইউসুফ মেম্বার, সেলিমুল হক রুমি,মুজাহিদ মল্লিক, কামরুজ্জামান মাছুম ও আজাদ বিশ্বাস সহ ৩৫ জন অনুপস্থিত ছিলেন। মামুন মাহমুদের কারণেই নেতাদের এই অনুপস্থিতি বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।

এদিকে গত ২০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অধীনে থাকা ৫টি থানা ও ৫টি পৌরসভায় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। আর এসকল কমিটিগুলো গঠন করা হয় ৩০ সদস্য বিশিষ্ট। কিন্তু এই কমিটি গঠনের পর পরই নারায়ণগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ সহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। ১০ টি ইউনিটের প্রত্যেকটিতেই লাখ লাখ টাকা বিনিময়ের অভিযোগ উঠেছে। বিগত সময়ে যাদের আন্দোলনে দেখা যায়নি যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই রয়েছে ক্ষমতাসীনদের সাথে সখ্যতা টাকার বিনিময়ে তারাই হয়েছেন এখন সং্িশ্লষ্ট থানা কিংবা পৌরসভার শীর্ষ পদের অধিকারি হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এর আগে ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণার পরই বাণিজ্যকরণের অভিযোগ উঠে। ২৬ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠনের এক মাস পেরুতে না পেরুতেই জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মানুন মাহমুদের ১৮ লাখ টাকা মূল্যের নতুন একটি প্রাইভেটকার কেনার সংবাদ প্রচার হয়। মূলত মামুন মাহমুদকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই এই গাড়ি উপহার দেয়া হয়েছিল। এছাড়াও আড়ালে আবডালে চলছিল নানা ধরনের উপঢৌকন বিতরণ। শুধু তাই নয়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালিন সময়ে শাহ আলমের ইচ্ছেতে এক রাতের মধ্যেই ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিলেন মামুন মাহমুদ।

সুত্রঃ দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম


Leave a Reply

Your email address will not be published.