রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের নাম জমা দেওয়ার পর যা বললেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব

রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের নাম জমা দেওয়ার পর যা বললেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব

জাতীয়: প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে জমা দিয়েছে অনুসন্ধান কমিটি।

এই ১০ জনের মধ্য থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের

বহনকারী গাড়ি একে একে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে। অসুস্থতার কারণে অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বঙ্গভবনে যাননি।

অনুসন্ধান কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী,

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের সাক্ষাৎ শেষে অনুসন্ধান কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বঙ্গভবন গেটে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ব্রিফিংয়ের সময় বঙ্গভবন গেটে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীনও উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সার্চ কমিটি তাদের রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি সেটা গ্রহণ করেছেন। তিনি সেটা একটু যাচাই-বাছাই করবেন। আশা করি দেখে অতিসত্বর নির্দেশনা দেবেন।‌কবে নাগাদ নতুন সিইসি ও ইসি নিয়োগ দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দুই-একদিনের মধ্যে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেটা নোটিফিকেশন (প্রজ্ঞাপন) করে ফেলা হবে। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তিনি দেখে দ্রুত এটা করে দেবেন। তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নোটিফিকেশন দেওয়া হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে ৫ জনের নাম রাষ্ট্রপতি সিলেক্ট করবেন সেই ৫ জনের নামেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে। গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে সপ্তম ও শেষ বৈঠকে বসে অনুসন্ধান কমিটি। সেদিন ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করলেও নামগুলো প্রকাশ করেনি অনুসন্ধান কমিটি।

৬ষ্ঠ বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান জানিয়েছিলেন, অনুসন্ধান কমিটি চূড়ান্ত হওয়া ১০ নাম প্রকাশ করবে না।‌‌ এবারই প্রথম আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন হচ্ছে। গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর নির্বাচন কমিশন গঠনে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।

৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম বৈঠকের পর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নাম চেয়েছিল অনুসন্ধান কমিটি। এরপর বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বাদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে তিন শতাধিক নাম জমা পড়ে। এর মধ্যে কমিটি কয়েক দফায় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেন। পরে ওয়েবসাইটে ৩২২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধান কমিটি ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিল। এই ১০ জনের মধ্য থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.