বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল, প্রেমিককে বিয়ে করতে দুই শিশুকে যে ভাবে বিষ খাওয়ান মা!

বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল, প্রেমিককে বিয়ে করতে দুই শিশুকে যে ভাবে বিষ খাওয়ান মা!

অন্যরকম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ইটভাটা শ্রমিক ইসমাইল হোসেন ও লিমা বেগমের দুই শিশু ইয়াছিন মিয়া (৭) ও মোরসালিন মিয়া (০৪) নাপা সিরাপ নয়,

মায়ের দেওয়া বিষ মাখানো মিষ্টি খেয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেমের জন্য মা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দুই শিশু নিহতের ঘটনায় তাদের পিতা ইসমাইল হোসেন শিশু

দুটির মা লিমা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বৃহস্পতিবার ভোরে মা লিমা বেগমকে আটক করে। তবে পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে এসব তথ্য জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, লিমা আশুগঞ্জের একটি চালকলে কাজ করেন।

আর তার স্বামী কাজ করেন ইটভাটায়। চালকলে কাজ করার সুবাদে আরেক শ্রমিক সফিউল্লার সঙ্গে লিমার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করারও সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি আরও জানান, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিষ্টির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দুই শিশু ইয়াছিন ও মোরসালিনকে খাইয়ে হত্যা করেন মা লিমা বেগম। মৃত্যুর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নাপা সিরাপের রিঅ্যাকশন হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।

কিন্তু লিমার আচরণে প্রথমেই পুলিশের সন্দেহ হয়। অধিকতর জিজ্ঞাসার পর তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় লিমার প্রেমিক সফিউল্লাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ মার্চ আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের দুই ছেলে ইয়াছিন ও মোরসালিন নাপা সিরাপ খেয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ তোলেন স্বজনরা।

ওই সময় শিশুদের মা লিমা বেগম দাবি করেন, ‘দুদিন ধরে মোরসালিন খানের জ্বর হয়। এরআগে থেকে ইয়াসিন খানেরও জ্বর ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে দুই শিশুর দাদি পাশের বাজারের মাঈন উদ্দিনের ফার্মেসি থেকে নাপা সিরাপ নিয়ে আসেন। দুই শিশুকে সিরাপ খাওয়ানোর পর তারা বমি করতে শুরু করে।’

‘অবস্থার অবনতি হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলে পথে রাত ৯টার দিকে ইয়াসিনের মৃত্যু হয়। পরে রাত ১০টার দিকে মোরসালিনও মারা যায়।’

এ ঘটনায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘নাপা সিরাপ’ বিক্রির নির্দেশ দেয় জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের যে ফার্মেসি থেকে নাপা সিরাপ কেনা হয়েছিল, সেখান থেকে জব্দ করা বাকি সিরাপ পরীক্ষায় মান সঠিক পাওয়া গেছে বলে জানায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।


Leave a Reply

Your email address will not be published.