জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যা বললেন টিপুর স্ত্রী ডলি


খবর: রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যা মামলার বাদী এবং তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলিকে

র‌্যাব-৩ এর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।সোমবার (২৮ মার্চ) দিনগত রাত ১০টার দিকে তাকে টিকাটুলিতে র‌্যাব

কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১২টার দিকে তাকে আবার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকালে ডলি সংবাদমাধ্যমকে বলেন,

‘আমি কোনো তথ্য জানি কি না…। এর আগে সাংবাদিক সম্মেলন করার আগে ডিবি ডেকে নিয়েছিল। যেহেতু আমি তার ওয়াইফ, আমার সঙ্গে কোনো কথা শেয়ার করেছিল কি না,

কাউকে সন্দেহ হয় কি না- ইত্যাদি জানতে চায়। তারপরে রাজনৈতিক পরিস্থিতিটা জানতে চেয়েছে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের। এসব নিয়ে কথা হয়েছে আরকি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার দাবি ছিল… কিলার ধরছে। কেউ তো তাকে টাকা দিয়ে ভাড়া করেছে। টিপুর সঙ্গে এ কিলারের তো সরাসরি কোনো বিরোধ নাই, দ্বন্দ্ব নাই। তাকে ধরছে,

তাতে আমি খুশি না। আমার কথা হচ্ছে পরিকল্পনা করছে যারা, যারা এদেরকে ভাড়া করেছে, তাদের ধরতে হবে।’ টিপুর স্ত্রী বলেন, ‘আবার পরিকল্পনা যারা করছে, তাদেরও গডফাদার আছে, এরা কারা? এই দুইটা স্তর ধরে দিতে হবে।

এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের জঘন্য খুন-খারাবি বন্ধ হবে না। একজন কিলার ধরলেন, তার শাস্তি হলো, কিন্তু মাস্টারমাইন্ডরা ধরা পড়ল না। তাতে তো আমার আর আমার বাচ্চাদেরও জীবনের রিস্ক তৈরি হলো। আমি তখন তো নিরাপদে থাকব না। এই কথাগুলোই আমি র‌্যাবকে বলেছি।’ ডলি আরও বলেন, ‘র‌্যাব আমাকে বলেছে, তারা আমাকে আরও আগেই ডাকত। কিন্তু আমার শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা এতদিন ডাকেনি। তারাও চায় টিপু হত্যায় যুক্ত সব স্তরের সবাইকে ধরতে। তারা বলেছে, এই খুনিচক্রের একদম শেকড় পর্যন্ত তারা ধরার চেষ্টা করছে।

আর আমি আমার নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছি। তারাও কথা দিয়েছে।’ এসময় মাস্টারমাইন্ড বা গডফাদার হিসেবে র‌্যাবের কাছে কারও নাম বলেছেন কি না- এই প্রশ্নের জবাবে টিপুর স্ত্রী বলেন, ‘আমার হাজব্যান্ড তো আমাকে এরকম কিছু বলেনি। আমি পলিটিক্যাল কর্নার থেকে যা যা জানছি সেটুকুই বলছি। আর গডফাদারের নাম তো শুনি। আমি তো তাদের চিনিও না।’ এর আগে শাহজাহানপুরের আমতলী এলাকার রাস্তায় গত বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দিনগত রাত ১০টার দিকে অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত হন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৪)। ওই সময় গাড়ির কাছেই রিকশায় থাকা বদরুন্নেছা সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতিও গুলিতে নিহত হন।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার সকালে টিপুর স্ত্রী ডলি শাহজাহানপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। শাহজাহানপুর থানার ওসি মনির হোসেন মোল্লা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলা নম্বর-১৮। অভিযোগে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। জাহিদুল ইসলাম টিপু প্রায় এক দশক আগে যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ঘটনার ৪-৫দিন আগে ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন তার স্ত্রী। হত্যাকাণ্ডের ৩ দিনের মাথায় গত রোববার বগুড়া থেকে মাসুম মোহাম্মাদ আকাশ নামে একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আকতার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আকাশই ‘মূল খুনি’। টিপুকে হত্যার জন্য তাকে ভাড়া করা হয়েছিল। তবে কারা এবং কেন টিপুকে হত্যা করার জন্য খুনি ভাড়া করেছে, সেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও দিতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, টিপু ও কলেজছাত্রী প্রীতিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার শুটার মো. মাসুম ওরফে আকাশের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২৮ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাসুমকে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.