‘পরীক্ষিতদের’ ওপরই বিএনপির তৃণমূলের আস্থা, আরিফের হাতেই কর্তৃত্ব

‘পরীক্ষিতদের’ ওপরই বিএনপির তৃণমূলের আস্থা, আরিফের হাতেই কর্তৃত্ব

রাজনীতি: সকল নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে দলের পরীক্ষিতদের ওপরই আস্থা রাখল বিএনপির তৃণমূল নেতারা।গোপন ভোটের মাধ্যমে তাঁরা তাদের অভিভাবক,

জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব নির্ধারণ করল।দলের কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি পদে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং

সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন পর জেলা বিএনপির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হল দলটির

কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর।যদিও সভাপতি পদে নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা তৈরীর পর দলীয় হাইকমাণ্ডের নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন আরিফুল হক চৌধুরী।

অপরদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও আলী আহমদ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলয়ের নেতা।

জেলা বিএনপির শীর্ষ দু’টি পদে তাদের বসাতেই সম্মেলন ও কাউন্সিলে নানা নাটকীয়তা চলে বলে অভিযোগ দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীর।কাউন্সিলে ৮৬৮ ভোট পেয়ে সভাপতি নিবাচিত হন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি আবুল কাহের শামীমের প্রাপ্ত ভোট ৬৭৫। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৭৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আলী আহমদ পেয়েছেন ৫৭৪ ভোট।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বি অপর দুই প্রার্থী আব্দুল মান্নান ৮১ ভোট ও আফম কামাল পান ৭২ ভোট। ৬২৩ ভোট পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন শামীম আহমদ।তার প্রতিদ্বন্দ্বি অপর দুই প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম মুজিবুর রহমান মুজিব পেয়েছেন ৪৬৮ ও লোকমান আহমদ পেয়েছেন ৪৩৯ ভোট। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বেলা দেড় টায় শুরু হয় কাউন্সিল অধিবেশন। ভোটগ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।ভোট গননা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন নিবাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল গফফার। এরআগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট ১ হাজার ৮১৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৫৬০ জন। সকাল সাড়ে ১১টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসীনা রুশদির লুনা ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের সভাপতিত্বে ও বিএনপি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের পরিচালনায় সমাবেশে এরপর অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকী। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. এনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, তাহসিনা রুশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সদস্য সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা ও আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।

সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলে ৩ পদে লড়েছেন ৯ জন। সভাপতি পদে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও আবুল কাহের চৌধুরী (শামীম)। সাধারণ সম্পাদক পদে আ. ফ. ম কামাল, আলী আহমদ, অ্যাডভোকেট ইমরান আহমদ চৌধুরী ও মো. আব্দুল মান্নান। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট এম মুজিবুর রহমান মুজিব, লোকমান আহমদ ও মো. শামিম আহমদ। ২১ মার্চ জেলা বিএনপির সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। এ সম্মেলনে শীর্ষ তিন পদে সরাসরি ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ৩ পদে ১৩ নেতা মনোনয়ন ফরম জমা দেন। সভাপতি পদে প্রার্থী হন সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এ সম্মেলনে শীর্ষ তিন পদে সরাসরি ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তিন পদে ১৩ নেতা মনোনয়ন ফরম জমা দেন।
তবে এক দিন আগে ২০ মার্চ হঠাৎ করেই কেন্দ্র থেকে সম্মেলন স্থগিত করা হয়। সম্মেলনের ভোটার তালিকা প্রস্তুতে ‘অনিয়ম’ হয়েছে বলে তখন কেন্দ্র থেকে জানানো হয়। এরপর ২২ মার্চ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র আরিফুল ‘কেন্দ্রের নির্দেশে’ প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান। ওই রাতেই জেলা বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে জরুরি সভা ডেকে চলতি মাসেই সম্মেলন আয়োজনের পুনঃসিদ্ধান্ত নেয়। সিলেট বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী জানান, এখন দলের বড় একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন কমিটির বেশির ভাগ নেতা তাঁর বলয়ের। এর বাইরে আরেকটি অংশের নেতৃত্বে আছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মুক্তাদিরের আধিপত্য কমাতেই আরিফুল জেলা বিএনপির সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন।

আরিফুল প্রার্থী হওয়ার পরপরই বিএনপির বহুধাবিভক্ত স্থানীয় রাজনীতিতে মূলত উত্তাপ ছড়ায়। আরিফুলের জয়ের ব্যাপারেও অনেকে আশাবাদী হয়ে ওঠেন। এরপর আরিফুলকে ঠেকাতে শুরু হয় তাঁর প্রতিপক্ষ নেতাদের নানামুখী তৎপরতা। শেষ পর্যন্ত ‘কেন্দ্রের নির্দেশে’ আরিফুল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকেন আবুল কাহের ও আবদুল কাইয়ুম। এর মধ্যে আবুল কাহের মুক্তাদির বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে কাইয়ুম বিএনপির সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও ‘নিখোঁজ’ নেতা এম ইলিয়াস আলী বলয়ের হিসেবে পরিচিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক কাউন্সিলর বলেন, আরিফুল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সম্মেলন ঘিরে তৈরি হওয়া উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনা অনেকটাই কমে যায়। অপরদিকে বিজয়ের আগাম আনন্দে গা ভাসিয়ে দেন মুক্তাদির বলয়ের নেতারা।অনেকেই কাহের শামীমকে আগাম অভিনন্দন জানাতেও ভুল করেননি।এমবাবস্থায়
আরিফের সঙ্গে দলীয় হাইকমাণ্ডের রহস্যজনক আচরণ এবং মুক্তাদির বলয়ের আম্ফালনে চরম ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত হন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটা অংশ।মঙ্গলবার গোপন ভোটের মাধ্যমে তাঁরা তাদের জবাব দেয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.