র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী

খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো কারণ ছাড়াই র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তার

ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ‘অত্যন্ত গর্হিত কাজ’। তিনি বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) অপরাধীদের রক্ষা করে ও

তাদের দেশে আশ্রয় দেয় এবং কোনো প্রকার অপরাধ ছাড়াই আমাদের দেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এটাই তাদের চরিত্র।

কাজেই তাদের ব্যাপারে এ ছাড়া আমি আর কী বলতে পারি।’ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে

আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সোমবার সকালে রাজধানীতে এ বাহিনীর সদরদপ্তরে লে. কর্নেল

আজাদ মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়নও ভার্চুয়ালি এতে অংশ নেয়।

প্রধানমন্ত্রী একই অনুষ্ঠানে র‌্যাব ২, ১০, ১৩ ও ১৪-এর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, র‌্যাব ফোর্সেস ট্রেনিং স্কুল, ‘মুজিব কর্নার’ সংবলিত র‌্যাব হেরিটেজ মিউজিয়াম উদ্বোধন করেন। তিনি র‌্যাব-৩ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের আশ্রয় এবং তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নারী ও শিশুদের নির্মমভাবে হত্যা করে,

সেসব খুনিদের ফেরত পাঠাতে তার সরকার যুক্তরাষ্টের বিচার বিভাগের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছে। তাদেরকে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে তাদের দেশে তারা খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে। সরকারপ্রধান বলেন, তার সরকার কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে যে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্য, র‌্যাব বা পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) কোনো বাহিনী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। আবার তারাই কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের কিছু র‌্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে গুলি করে এক শিশুকে এবং বুটের পাড়া দিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যা করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার যে কোনো সদস্য অপরাধ করলেও তাদের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে যে কেউ অপরাধ করলে তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি জানেন না কী কারণে হলি আর্টিজান ক্যাফে হামলাসহ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে র‌্যাবের সফলতায় যুক্তরাষ্ট্র কষ্ট পেল। তিনি বলেন, লজ্জাজনক বিষয় হচ্ছে যে বাংলাদেশের কিছু মানুষ দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারা অপরাধী। তারা হয় চাকরি হারিয়েছে অথবা অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী র‌্যাব সদস্যদের আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। রমজান মাসকে সামনে রেখে কতিপয় কালোবাজারির নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে যে কোনো ধরনের মজুদদারির বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে তিনি র‌্যাব সদস্যদের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও বৃদ্ধি করতে র‌্যাব সদস্যদের নির্দেশ দেন। তিনি সমাজ থেকে মাদক সম্পূর্ণভাবে উৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখতে বলেন। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনস্রোত ও সেখানে ক্রমবর্ধমান অপরাধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ওই জেলায় র‌্যাবের একটি সম্পূর্ণ ব্যাটালিয়ন মোতায়েনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে র‌্যাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে এই বাহিনীর সফলতার একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ র‌্যাব গঠন করা হয় এবং একই বছরের ২১ জুলাই এই বাহিনী অভিযান শুরু করে। র‌্যাব সদস্যরা একই বছরের আগস্টে ২৩ দুর্ধর্ষ অপরাধীর অন্যতম পিচ্চি হান্নানকে গ্রেফতারের পর লাইম লাইটে আসে। শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এভাবে তারা জাতির উন্নয়নে অবদান রাখছে। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে র‌্যাবের অবদান অপরিসীম। দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান থাকায় আমরা প্রতিটি উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্বিঘ্নে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে এবং দেশের মানুষকে একটি সুন্দর ও উন্নত জীবন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।


Leave a Reply

Your email address will not be published.