গরিবের ডাক্তার খু’ন হলেন যাদের হাতে, জানাল গোয়েন্দা পুলিশ

গরিবের ডাক্তার খু’ন হলেন যাদের হাতে, জানাল গোয়েন্দা পুলিশ

খবর: ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত দন্ত চিকিৎসক ডা. আহমেদ মাহী বুলবুল।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. রায়হান ওরফে সোহেল আপন (২৭),

রাসেল হোসেন হাওলাদার (২৫), আরিয়ান খান হৃদয় (২৩) ও সোলায়মান (২৩)। মঙ্গলবার রাতে মিরপুর, পল্লবী, সাভারের কাউন্দিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে চিকিৎসক বুলবুলের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও তাকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া চারজনই ছিনতাইকারী বলে জানিয়েছে

গোয়েন্দা পুলিশ। সংস্থাটি বলছে, আনন্দবাজার থেকে শেওড়াপাড়া বাস স্ট্যান্ড যাওয়ার পথে ডা. বুলবুলের (৩৯) রিকশার গতিরোধ করে ছিনতাইকারীরা। তারা প্রথমে বুলবুলের মোবাইল ফোন

ছিনিয়ে নেয়। পরে টাকা ছিনিয়ে নিতে চাইলে বুলবুল বাধা দেন। এ সময় বুলবুলকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এতে বুলবুলের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখে শুধু ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

তাদের গ্রেফতারের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে বুধবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) একেএম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন,

নিহত বুলবুল পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক এবং প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। তিনি ১৫ থেকে ২০ দিন আগে নোয়াখালীতে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ পান। বুলবুলের পরিবারের ভাষ্য, নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভোরে বুলবুল বাসা থেকে বের হন।মেট্রোরেলের ৩০৫ নম্বর পিলার থেকে ফার্মগেটের দিকে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু বুলবুল ছুরিকাহত অবস্থায় উল্টো দিকে পশ্চিম কাজীপাড়া ২৭৮ নম্বর পিলারের কাছে পড়েছিলেন।

পশ্চিম কাজীপাড়া বুলবুল কীভাবে গেলেন? কোনো সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা হাফিজ আক্তার বলেন, বিষয়টি আমরা আমলে নিয়ে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে- তারা পেশাদার ছিনতাইকারী। আর চিকিৎসক বুলবুল হত্যার ঘটনাটি ‘আননোওন মার্ডার কেস’ হিসেবে তদন্ত শুরু হয়েছে। এটি হত্যার পাশাপাশি ডাকাতি মামলা হিসেবে টার্ন করবে।

কেন এ হত্যাকাণ্ডকে ছিনতাই বলছেন- এমন এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে গোয়েন্দা পুলিশের কাজ ক্লু উদ্ধার করা ও কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা। যে কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা এ কাজগুলো করি। আর এ ঘটনার প্রমাণ হলো- চারজনকে গ্রেফতার ও নিহত চিকিৎসকের মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার। মামলা তদন্তের সময়ে সবদিক বিবেচনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে আমাদের এটিকে ছিনতাই মনে হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরেই রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাইয়ের সময় হত্যা, ছুরিকাঘাতসহ নিজেদের মধ্যে বিভেদে খুনোখুনির ঘটনাও ঘটছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ভোরে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় আলোচিত দন্ত চিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুলকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। বুলবুল ওই রাতে নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশে মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আনন্দবাজার এলাকা থেকে শেওড়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে যেতে রিকশায় করে রওনা হন। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পশ্চিম কাজীপাড়ায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তিনি। বুলবুলকে ছুরিকাঘাতের পরই ঘটনাস্থলে অটোরিকশা ও বাস চলে আসায় ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য। গোয়েন্দা শাখা জানায়, ছিনতাইয়ের লক্ষ্যে ওইদিন পাঁচজন জড়ো হয়েছিল। প্রথমে বুলবুলের সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা।পরে টাকা নিতে চাইলে বাধা দেন বুলবুল। ওই সময় তার ডান পায়ের উরুতে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বুলবুলের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা গোয়েন্দা পুলিশের।


Leave a Reply

Your email address will not be published.