দুই সন্তান রেখে প্রেমিকের সঙ্গে পালাল প্রবাসীর স্ত্রী

দুই সন্তান রেখে প্রেমিকের সঙ্গে পালাল প্রবাসীর স্ত্রী

প্রবাসী স্বামীর টাকা-স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন আকলিমা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূ। গত রবিবার (২৭ মার্চ) বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়া প্রেমিকের নাম আব্দুল আল খালিদ (৩০)। তিনি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রেহমানের ছেলে।

আকলিমার এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামী মো. হোসেন মিয়া (৩৫) বর্তমানে লিবিয়া প্রবাসী। এর আগে ১২ বছর তিনি সৌদি আরবে ছিলেন। বাবা প্রবাসে আর মা পালিয়ে যাওয়ায় দুই অবুঝ শিশু নিয়ে বিপাকে দাদি হালিমা বেগম।

গতকাল সোমবার রাতে প্রবাসী হোসেন মিয়ার মা বাদী হয়ে ভৈরব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের টান কৃষ্ণনগর গ্রামে ছাদেক মিয়ার ছেলে হোসেন মিয়া

একই উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা গ্রামের সালাম মিয়ার মেয়ে আকলিমা বেগমকে ১২ বছর আগে বিয়ে করেন। ১২ বছরের সংসারে তাদের তাসনিম হোসেন (১১) নামের একটি মেয়ে ও তাজিম হোসেন (৭) নামের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে লিবিয়া প্রবাসী হোসেন মিয়া ১২ বছর সৌদি আরব থেকেছেন।

বিয়ের পর বিশ্বাস করে স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আয়ের লাখ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। কয়েক বছর হলো তিনি সন্তানদের ভালো লেখা-পড়ার কথা চিন্তা করে গ্রামের বাড়ি ছেঁড়ে স্ত্রী-সন্তানদের ভৈরব শহরের ভৈরবপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখা শুরু করেন। এরই মধ্যে এক নিকটাত্মীয়র মাধ্যমে পরিচয় হওয়া

আব্দুল আল খালিদের সঙ্গে। এরপর তার সঙ্গে জড়ান পরকীয়ায়। স্বামীর অনুপস্থিতিতে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ ঘটনা জেনে স্বামী তাকে বিদেশ থেকে বার বার সতর্ক করলেও থেমে থাকেনি তাদের অনৈতিক মেলামেশা।

এরই সূত্র ধরে গত রবিবার বাসা থেকে বেড়ানোর কথা বলে বের হয়ে খালিদের সঙ্গে পালিয়ে যান আকলিমা। বাসা থেকে যাওয়ার সময় আকলিমা ২০ লাখ টাকা ও ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। আকলিমার শাশুড়ি হালিমা বেগম জানান, আমার ছেলের ১২ বছরের আয় তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে

বিশ্বাস করে পাঠিয়েছে। গহনা ছিল ১২ ভরি। এই গহনা আলমারিতে নেই। সব নিয়ে খালিদের সঙ্গে বেড়ানোর কথা বলে পালিয়ে গেছে। তাদের দুটি অবুঝ শিশু সন্তান রয়েছে। আমি এখন অবুঝ শিশু দুটিকে নিয়ে বিপদে আছি। তারা তাদের মাকে ফিরে পেতে কান্না করছে।

তিনি অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করেন, খালিদ তার মোবাইল নম্বরে ফোন করে হুমকি দিয়েছে, মামলা করলে শিশু দুটিকে নিয়ে মেরে ফেলবে। তাই তিনি তার নাতিনাতনির নিরাপত্তা নিয়ে বেশ চিন্তিত। আকলিমাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং মোবাইল ফোনে হুমকি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খালিদ বলেন, আমি এই প্রসঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছুক নই। ভৈরব থানার উপপরিদর্শক আবু সাঈদ জানান, গতকাল রাতে অভিযোগটি তিনি হাতে পেয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। ঘটনাটির সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.