পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে ছেলের বিয়ে, সাময়িক বরখাস্ত সেই শিক্ষিকা

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে ছেলের বিয়ে, সাময়িক বরখাস্ত সেই শিক্ষিকা

চুয়াডাঙ্গায় দশম শ্রেণির ছাত্রের সঙ্গে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের ঘটনায় বরের মা অভিযুক্ত শিক্ষিকা শামসুন নাহারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে সই করেন

নিয়োগকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে গত ২০ মার্চ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ছোটশলুয়া গ্রামের বিলপাড়ার দিনমজুর অসোক আলীর মেয়ে (১১)

বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা শামসুন্নাহার তার ছেলে যদুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহমানের বিয়ে দেন।

সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিজ ছেলের সাথে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে আমার নজরে আসে। এরপর সোমবার সকালে সরজমিনে একজন সহকারী উপজেলা

শিক্ষা অফিসারকে সরজমিনে পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষিকা বেগম শামসুন্নাহারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভূঁইয়া ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয়

ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। সবদিক বিচেবচনা করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, একজন সহকারী শিক্ষক তার ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্রের

সঙ্গে নিজের স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী বিয়ে দিয়ে কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে। আজ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে শুনেছি। কিন্তু আদেশ এখনও হাতে পাইনি।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে নিজের ছেলের বাল্যবিবাহ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শামসুন নাহার বলেন, ‘আমার বাড়ির অবস্থা খুব একটা ভালো না। বিশেষ করে আমার মায়ের খুব শরীর খারাপ। মায়ের ইচ্ছা নাতির বউ দেখার। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করার জন্যই ছেলের সাথে ছাত্রীর বিয়ে দিয়েছি। তবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়নি। বেগমপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও বেগমপুর ইউনিয়নের কাজি মফিজুল ইসলাম ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে দিয়েছেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.