যেকোনো সময় পদত্যাগ, জোটসঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষমতা হারানো ‘পাকাপোক্ত’ ইমরান খানের!

যেকোনো সময় পদত্যাগ, জোটসঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষমতা হারানো ‘পাকাপোক্ত’ ইমরান খানের!

আন্তর্জাতিক: নnদেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ইমরান খানের বিপদ যেনো রাতারাতি আরও বেড়ে গেল। জোটসঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতায় পাকিস্তানের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অন্যতম জোটসঙ্গী মুত্তাহিদা কউমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) হাত মিলিয়েছে

দেশটির বিরোধীদল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে। আর এতে রাতারাতি আরও বড় সংকটের মুখে পড়ে গেছেন ইমরান। ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই তার জন্য এবার আরও কঠিন হয়ে উঠল।

অনাস্থা প্রস্তাবের যাঁতাকল থেকে ইমরান খানের বেরিয়ে আসার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে এই ঘটনা। শুধু তাই নয়, এ ঘটনার পর এখন যেকোনো সময় পদত্যাগের ঘোষণাও দিতে পারেন ইমরান।

পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘ঐক্যবদ্ধ বিরোধীরা এবং এমকিউএম একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এমকিউএমের রাবাতা কমিটি এবং পিপিপির সিইসি ওই চুক্তি অনুমোদন দেবে।

আমরা আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবো। অভিনন্দন পাকিস্তান’। ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দেশটির বিরোধীরা যেভাবে জোটবদ্ধ হচ্ছেন তাতে দেখা যাচ্ছে যে,

ইমরান খানের সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব অথবা অনাস্থা ভোটের আগেই পাকিস্তানের সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে তার দল পিটিআই।

ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের অন্যতম জোটসঙ্গী এমকিউএম-পি বিরোধী দল পিপিপির সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোয় দেশটির জাতীয় পরিষদে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা এখন ১৭৭ জনে পৌঁছেছে। আর ইমরান খানের সরকারের সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। জোটসঙ্গীদের নিয়ে ক্ষমতায় আসার সময় জাতীয় পরিষদে পিটিআইয়ের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৭৯ জন। দেশটির ৩৪২ সদস্যের জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে জিততে কমপক্ষে ১৭২ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এখন ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পিটিআইয়ের কোনো সদস্যেরও সমর্থনের প্রয়োজন নেই পিপিপি নেতৃত্বাধীন বিরোধীদের।

বিদেশি অর্থায়নে পাকিস্তানের কিছু মানুষ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার যড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইমরান খান। তার দলের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী আসাদ উমর বলেছেন, বিদেশি ষড়যন্ত্রের চিঠি পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালকে দেখাতে প্রস্তুত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।গত রবিবার ইসলামাবাদে জনসমাবেশে ইমরান খান বলেছিলেন, ‘বিদেশি অর্থায়নে পাকিস্তানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের লোকজনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ লোকই অসাবধানতাবশত ব্যবহার হচ্ছে। কিছু মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবহার করছে। আমরা জানি কোন জায়গা থেকে আমাদের চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের লিখিতভাবেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করব না’।


Leave a Reply

Your email address will not be published.