আ’লীগ নেতাকে হ’ত্যার অভিযোগ

আ’লীগ নেতাকে হ’ত্যার অভিযোগ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বৈঠক চলাকালে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম মণ্ডল (৪৭) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পুলিশ বলছে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।

বুধবার (৩০ মার্চ) বিকেলে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টায় জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ৯নং ভিয়াইল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খেড়কাটী বাজারে এই ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে ওই এলাকায় বালুবাহী ৬টি ট্রাক আটক করে রেখেছে এলাকাবাসী। এছাড়া পুলিশও একটি ড্রাম ট্রাক আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।

পরিবারের সদস্যরা হামলার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছেন। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করবেন বলেও জানিয়েছে পরিবার।

নিহত আবুল কালাম মণ্ডল খেড়কাটী গ্রামে মৃত কামির উদ্দিনের ছেলে। তিনি ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি মেম্বার ও ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান।

নিহতের বড় ভাই আমিনুল মন্ডল বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার পদে আবুল কালাম মণ্ডল ও একই এলাকার আলমগীর হোসেন এবং অপর একজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় আলমগীরের সঙ্গে আবুল কালাম মণ্ডলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। নির্বাচনে আবুল কালাম মণ্ডল ও আলমগীর পরাজিত হয়। মঙ্গলবার রাতে খেড়কাটী বাজারে একটি খালি ড্রাম ট্রাক তেল নেয়।

তেল নিয়ে চালক পিছনের হাইড্রোলিক বডিটি উপরে ওঠায় গাড়ী চালায়। এ সময় বাজারে একটি বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে আগুন ধরে যায়। এলাকাবাসী তাৎক্ষণিক ট্রাকটি আটক করে বিদ্যুতের আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

রাত ৯টায় বাজারে এব্যাপারে ট্রাক চালককে সঙ্গে নিয়ে একটি মীমাংসা বসে আবুল কালাম মণ্ডল। মীমাংসার এক পর্যায়ে আবুল কালাম মণ্ডলকে আলমগীর হোসেন, তার চাচা মোশাররফ হোসেন, বালু ব্যবসায়ী মিলন হোসেন কিলঘুষি মারে। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে রাতে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১১টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রতিবেশী এনামুল হক শাহ বলেন, মীমাংসা চলাকালীন সময়ে আবুল কালাম মণ্ডলকে কিলঘুষি মারে আলমগীর হোসেন, তার চাচা মোশাররফ হোসেন ও বালু ব্যবসায়ী মিলন হোসেন। কিলঘুষি মারতে মারতে তারা বলেন, আবুল কালাম মণ্ডলের বুকের ওপর দিয়ে ড্রাম ট্রাক নিয়ে যাব। কেউ গাড়ী আটকাতে পারবে না। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আমিনুল মণ্ডল বাদী হয়ে আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করবেন, যার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের জানাজা ও দাফন শেষে এ মামলাটি দায়ের হবে।

এ ব্যাপারে আলমগীর হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার এলাকাতেও তাকে পাওয়া যায়নি।এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)বজলুর রশিদ বলেন, খেড়কাটী বাজারে একটি গন্ডগোলে মীমাংসা করার সময় হার্ট অ্যাটাকে আবুল কালাম মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে বলে আমি জেনেছি। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় একটি ড্রাক ট্রাক আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.