লাগাতার যৌ’ন নি’র্যাতন, অতঃপর সৎ বাবার সাথে ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটালেন মা মেয়ে


নিজের সৎ মেয়ের ওপর লাগাতার যৌন নির্যাতন চালাতেন এক বাবা। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মা ও ভুক্তভোগী মেয়ে মিলে সৎ বাবাকে হত্যা করেছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মা এবং মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, হাওড়ার ডোমজুড়ের বাসিন্দা সালাম একটি স্বর্ণের দোকানের মালিক। বেশ কয়েক বছর ধরে মুম্বইয়ে থাকার পর করোনার সময় বাড়ি ফেরেন তিনি।বাড়ি আসার পর প্রায়ই মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন চালাতেন তিনি।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মা এবং মেয়ে গলা টিপে খুন করেছেন তাকে। ঘটনাটিকে প্রথমে তারা অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে সাজাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে পুলিশের জেরার মুখে দুজনই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত দুই মাস ধরে সৎ মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন চালাচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি। নিজের মেয়ের ওপর সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়েই স্বামীকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেন ওই নারী। পরিকল্পনায় সঙ্গী করেন তার অত্যাচারিত মেয়েকেও।

পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।‌‌ হাওড়ার ডোমজুড়ের এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম শেখ সালাম। সালামের বয়স ৫৫। ডোমজুড় পুলিশ জানিয়েছে, সালামকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সুলতানা বেগম এবং তার নাবালিকা সৎ মেয়ে।

পুলিশ দুজনকেই ডোমজুড় থানায় আটক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে দুজনই খুনের কথা স্বীকার করায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সুলতানার অভিযোগ, ‘মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন করছিল স্বামী। গত দুই মাস ধরে এটা চলছিল। শেষ পর্যন্ত মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারিনি। আমি এবং আমার মেয়ে তাকে গলা টিপে খুন করেছি।’

তবে খুন করলেও বিষয়টিকে অন্যভাবে সাজিয়েছিলেন সুলতানা। বুধবার রাতে খুনের পর প্রথমে প্রতিবেশীদের ঘরে ডাকেন তারা। বিছানার ওপর পড়ে থাকা সালামের দেহ দেখিয়ে বলেন, তাদের অজান্তে কেউ খুন করেছে সালামকে। পুলিশকে সুলতানার প্রতিবেশীরা বলেছেন, সালামের গলায় তখন শ্বাসরোধের কালো দাগ স্পষ্ট ছিল।

সুলতানা তাদের বলেছিলেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। কেননা, তারা বাড়িতে ছিলেন না। সন্ধ্যাবেলায় দুজন অতিথির বাড়িতে আসার কথা জানিয়ে তাদের অন্যত্র যেতে বলেছিলেন সালাম। তারা এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ঘুরে আধঘণ্টা পরে ফিরে সালামকে এই অবস্থায় দেখেন। যদিও পরে পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়েন দুজনই। খুনের কথা স্বীকার করেন। স্বামীর বিরুদ্ধে কিশোরীকে যৌননির্যাতনের অভিযোগও করেন। অভিযোগ সত্যি কি না, তা যাচাই করে দেখছে পুলিশ।


Leave a Reply

Your email address will not be published.