হিজাব পরে বিদ্যালয়ে আসায় শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও শারীরিক নির্যাতন, অতঃপর যে সিদ্ধান্ত হলো

হিজাব পরে বিদ্যালয়ে আসায় শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও শারীরিক নির্যাতন, অতঃপর যে সিদ্ধান্ত হলো

হিজাব পরে বিদ্যালয়ে আসায় শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এই নিয়ে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হিজাব পরে আসতে বাধা নেই বলে জানিয়েছে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের সেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৩০ মার্চ) জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ (জে.বি) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। বিজ্ঞপ্তিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রধান শিক্ষক নিজেই।

এতে উল্লেখ রয়েছে, জে.বি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী ও শুভানুধ্যায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো যাচ্ছে, হিজাব/স্কার্ফ পরা নিয়ে যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও

সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে আসার ক্ষেত্রে ছাত্রীদের হিজাব/স্কার্ফ পরার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই। যে সব ছাত্রী হিজাব/স্কার্ফ পরতে ইচ্ছুক তারা তা পরে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে।

বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সভা বসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম জামিউল হিকমা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান, জোরারগঞ্জ থানার ওসি নুর হোসেন মামুন,

জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টার, মীরসরাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মিঠুসহ সাংবাদিকরা। এ সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে সবার সম্মিলিত বৈঠকে হিজাব/স্কার্ফ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘বিদ্যালয়ে হিজাব পরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমরা স্কুলের প্রাত্যহিক সমাবেশেও ঘোষণা দিয়েছি। আবার নোটিশ আকারেও প্রচার করেছি।’

প্রসঙ্গত, এক শিক্ষার্থী স্কুলে হিজাব পরে আসার কারণে প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়ুয়া তাকে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এই নিয়ে গত কয়েকদিন মীরসরাইয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। যদিও শুরু থেকে প্রধান শিক্ষক বেত্রাঘাতের বিষয়টি অস্বীকার করছিলেন। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সুরাহা হলো।


Leave a Reply

Your email address will not be published.