হেফাজতে খেসারত বিএনপির

হেফাজতে খেসারত বিএনপির

নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে সংঘর্ষের ঘটনায় গত এক বছর ধরে ৮টি মামলার আসামী হয়ে ত্রাহিদশা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য।

দলটির নেতাদের অভিযোগ, হেফাজতের আন্দোলনে তাদের বিন্দু পরিমাণ সম্পৃক্ততা না থাকার পরেও তারা আসামী হয়ে জেল খাটতে হয়েছে, এখনো মামলা লড়তে হয়েছে। যদি পুলিশের দাবী ওই ঘটনায় হেফাজতের চেয়ে বাইরের লোকজনই বেশী ছিল।

কাউকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে না। ২০২১ সালের ৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা হরতালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ছিল এলাকা ছিল হরতাল সমর্থকদের দখলে।

ভোর ৬টা থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা মহাসড়কের শিমরাইল, সানারপাড় এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে, বালুর বস্তা রেখে, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও লাঠিসোটা নিয়ে অবরোধ করে রাখে। এসময় কয়েকটি ট্রাক চলাচল করতে চাইলে হরতাল সমর্থনে বিক্ষোভকারীরা ঢিল ছুঁড়ে ট্রাকের গ্লাস ভাঙচুর করে।

এসময় র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কয়েকবার মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। সকাল ১১টায় বিক্ষোভকারী হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় শাকিল (৩২) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও টিয়ারসেল সহ গুলি ছুড়তে দেখা যায়।

সন্ধ্যায় ৭টি কাভার্ড ভ্যান, ৬টি ট্রাক, ৪টি বাস, ১টি হাইস গাড়ি, ৩টি পিকআপে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। রাত ৯টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ওই ঘটনায় মোট ৮টি মামলা দায়ের হয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়। পৃথক এসব মামলা বিএনপি ও জামায়াতের অন্তত ৩৬০০ জনকে আসামী করা হয়। পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সূত্র মতে, আসামীদের তালিকাতে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহবায়ক আবদুল হাই রাজু, মহানগর যুবদল নেতা মন্তাজউদ্দিন মন্তু, টিএইচ তোফা, অকিলউদ্দিন ভূইয়া, জুয়েল প্রধান, লিয়াকত হোসেন লেকু, কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন,

সাদরিল হোসেন, বিএনপি নেতা আলী হোসেন প্রধান, ইমাম হোসেন বাদল, আইয়ুব আলী মুন্সী, মোশারফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম দেওয়ান, মুফতী রুবেল, শাহআলম মানিক, রিপন, সালাউদ্দিন, আকরাম, মালেক ওরফে গাট্টা মালেক, মান্নান ডাক্তার, গোলাম কিবরিয়া, তৈয়্যব হোসেন, কামাল হোসেন, মনির হোসেন, মো. সোহেল, মোঃ জুয়েল, ফয়সাল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রওশন আলী, মহানগর ছাত্রদলের সেক্রেটারী মমিনুর রহমান বাবু, ছাত্রদল নেতা সাগর, জামায়াত নেতা বশিরউল্লাহ, মাসুম বিল্লাহ, শিবির নেতা রাসেল প্রমুখ। গত এক বছরে মনিরুল ইসলাম রবি, কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, কাউন্সিলর সাদরিল সহ অনেকেই গ্রেপ্তার হন। এছাড়া হেফাজতের নেতাদের মধ্যে জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশিরউল্লাহ ছাড়া আর বড় মাপের কোন নেতা গ্রেপ্তার হয়নি।

এ ব্যাপারে বিএনপির জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি জানান, নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের ডাকা হরতালের সময়ে সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা ছিলাম না। বিএনপিকে ঘায়েল করতে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার জন্যই এ মামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে আসামী করা হয়েছে। এতে দোষীরা ছাড় পেয়ে গেছে। হেফাজতের হরতালে আমাদের কোন সমর্থনও ছিলো না, আমরা অংশগ্রহণও করি নাই।

তিনি আরো জানান, এ মামলায় তিনি অনেকেই জেল খেটেছেন। কেউ বা জামিন নিয়েছেন। আবার অনেকে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পুরোটাই এখন হয়রানিমূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত সেই ঘটনায় সম্পৃক্ত না থেকেও আমাদের এখন ফেরারি হয়ে ঘুরতে হচ্ছে।‌ওই সময়ে পুলিশ সুপার জায়েদুল ইসলাম জানান, ‘এ মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে, ওইদিন যারা উপস্থিত ছিল, আমরা যাদের দেখেছি বিশেষ করে হেফাজতের কিছু কর্মী, বিএনপি ও জামায়াতের কিছু লোকজন ছিল। আসামিদের নাম এজাহারে আছে। যারা ওখানে ছিল এবং এগুলো পেট্রোনাইজ করেছে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের নামে মামলা করা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক পরিচয় দেখিনি। আমরা দেখেছি কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের আসামি করা হয়েছে। যাদের আমরা ভিডিও ফুটেজ, মিডিয়ার দেওয়া তথ্য ও ছবি এসবের উপর ভিত্তি করে মামলা হয়েছে।’

সূত্র: দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম


Leave a Reply

Your email address will not be published.