এখন যে অবস্থা ৩-৪ বছর লাগবে

এখন যে অবস্থা ৩-৪ বছর লাগবে

নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক না জাতীয় সরকার। এ নিয়ে বিরোধী রাজনীতিতে নানা আলোচনা। বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। পরে জাতীয় সরকার।

সার্বিক বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জাতীয় এবং নির্দলীয় কোনো সরকারের কথাই আমি বলি না। আমি বলি অন্তবর্তীকালীন সরকার। কারণ এটা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয় না। কিন্তু সেটার টার্মস আমরা ব্যাখা করতে পারি।

এটা এমন একটা সরকার যেটা নির্বাচনের জন্য সত্যি সত্যি একটা সমতল জমি তৈরি করবে সব দলের জন্য। এটা করতে গেলে প্রশাসনের ব্যাপক রদ বদল লাগবে।

তিনি বলেন, জাতীয় সরকারের কথাটা আমাদের রাজনীতিতে ব্যবহার হয়। কিন্তু খেয়াল করে দেখা যাবে জাতীয় ফুল, জাতীয় ফল যেটা সবার জন্যই কমন। ঠিক জাতীয় সরকারও সবার জন্যই কমন।

মান্না বলেন, কোনো দলের প্রতি বিদ্বেষ থেকে নয়, যারা প্রকৃত দোষী তাদের শাস্তি দিতেই হবে। এ জন্য জাতীয় সরকারের বক্তব্যটা ঠিক নয়। আমি বলছি একটা অন্তবর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের কাজ হবে সমতট জমি তৈরি করা,

এই যে দ্রব্যের দাম এতো বেড়েছে, অর্থনীতিতে ধস নেমেছে সেগুলোকে তাদের অ্যাড্রেস করতে হবে। দেশে কী পরিমাণ দরিদ্র মানুষ আছে সেটা অ্যাড্রেস করতে হবে। এই সরকার গঠনের পর যারা ক্ষমতায় যাবে তারা কাজ করতে গিয়ে বুঝবে। সর্বশেষ কেয়ারটেকার যে সরকার ছিল তিন মাসের কথা বলে দুই বছর সময় নিয়েছিল এই অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য।

আর এখন যে অবস্থা এর জন্যতো ৩-৪ বছর লাগবে।অন্তবর্তীকালীন সরকার কীভাবে আসবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আন্দোলন যারা করবে তারাই বলবে কীভাবে সরকারটা আসবে। তখন পথ বেরোবে। এখন যদি এই পথটা বলতে যাই,

তাহলে আন্দোলন যারা করছে তাদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ হতে পারে। তবে প্রকৃত ভদ্রলোকদের দিয়ে সরকার গঠনের জন্য আমি বলছি না। কারণ যারা এই সামগ্রিক পরিস্থিতিটা হ্যান্ডেল করতে পারবে সেই রকম একটা সরকার প্রয়োজন। এখন এমন একটা সরকার প্রয়োজন যারা এই দেশে হাইব্রিড ফ্যাসিস্ট রেজিম থেকে ডেমোক্রেসিতে রূপান্তর করার সিঁড়ি তৈরি করবে।

এখন পরিস্থিতি আন্দোলনের উপযোগী উল্লেখ করে মান্না বলেন, গত তিন মাস ধরে দেশে কোনো ক্রসফায়ার নেই, বড় ধরনের নির্যাতন নেই। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা, ইউএন এর চিঠি, সবকিছু মিলিয়ে সরকারকেতো আগের মতো এগ্রেসিভ দেখি না। বিরোধীদল মিছিল মিটিংতো করতে পারছে। বাধা পেলেও প্রোগ্রামতো করতে পারছে। মোট কথা নিঃশ্বাসটাতো ছাড়তে পারছে। সেই অর্থে মনে করি পরিবেশ আছে। পরিবেশকে ব্যাপক বানানোর জন্যতো আন্দোলন করতেই হবে। সরকার যেভাবে বাধা দেয়ার চেষ্টা করুক আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে নামলে এ সমস্ত বাধা কোনো কাজে আসবে না।

আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর আগামী নির্বাচনের ভূমিকা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, আমি এটাতে তেমন কোনো আগ্রহ দেখাতে চাইনা, কারণ আন্দোলন করে যে সরকার প্রতিষ্ঠা করবো সেই সরকার নিজেরাই সবকিছু নির্ধারণ করবে। বাইরের ওরাতো নির্ধারণ করবে না। আর করতে চাইলেই আমি দেবো কেন? আগামী নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, আমরা যে রকম নির্বাচন চাচ্ছি এর ব্যত্যয়তো আমি আশা করি না। এর উল্টোটা আমি চাই না। দেশে সুষ্ঠু ভোট হবে এর জন্যইতো আমরা লড়াইটা করছি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.