কৌশলী রাজনীতিতে সরব বিএনপি

কৌশলী রাজনীতিতে সরব বিএনপি

রাজনীতি: বছর দুয়েক পূর্বেও বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনকে মূল সড়কে দেখা যেত না। মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা আর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত র‍্যালীতেই দেখা মিলতো মূল সড়কে।

দলীয় কর্মসূচীর ক্ষেত্রে প্রেসক্লাবের পেছনের গলি আর নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনই ছিলো তাদের ভরসা। তবে দীর্ঘ সেই লুকোচুরির যাত্রা থেকে নিস্তার এসেছে চলতি বছরে।

মূল সড়কে নেমে নিজেদের কর্মসূচী পালন শুরু করেছেন তারা। চাষাঢ়া শহীদ মিনারে পরপর কয়েকটি সমাবেশ করে চমক দেখিয়েছেন বিএনপি নেতারা। মহানগর ও জেলা বিএনপির মূল দল,

স্বেচ্ছাসেবক দলের সমাবেশ চাষাঢ়া শহীদ মিনারে আয়োজন করে এক মিলনমেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। ছিলো না চিরাচরিত পুলিশি বাঁধা কিংবা ভিন্ন কোন হস্তক্ষেপ। দলের নেতাকর্মীরাও উৎসব করে যোগ দিয়েছেন এসব সমাবেশে।

অথচ এর পূর্বে সবশেষ কবে এই চাষাঢ়া প্রাঙ্গনে সমাবেশ করেছিলেন তারা তা হয়তো বলতে পারবেন না অনেকেই। নিত্যপন্যের বাড়তি দামের প্রতিবাদকে ঘিরে এখন পর্যন্ত সমাবেশ, মিছিল এবং অনশন কর্মসূচী পালন করেছে বিএনপি।

দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোও হয়ে উঠেছে বেশ সক্রিয়। নতুন নতুন কমিটি প্রনয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের পুনরায় সুসংগঠিত করছে বিএনপি। গত ১০ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশী পরিবর্তন এবং সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে দলটিকে।

তবে রাজনীতিবিদদের মতে যেই কৌশলে এগিয়েছে বিএনপি তা আরও ৬/৭ বছর পূর্বেই সেই কৌশলে ঝুকতে পারতেন তারা। বিশেষ করে সভা সমাবেশের ক্ষেত্রে পুলিশের অনুমতি এবং শান্তিপূর্ন কর্মসূচী পালন। এছাড়া দলের চাইতে জনগনের দাবী দাওয়া সম্পৃক্ত আন্দোলনে নিজেদের যুক্ত রাখতে পারলেই কেবল নিজেদের মাঠে নামাতে পারতেন আরও আগেই। যেই কৌশল তারা এই বছর নিয়েছে তা অনেক আগে থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবী ছিলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশী গণদাবী নিয়ে সক্রিয় থাকে বাম ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলো। এর বাইরে ইসলামী দলগুলো কিছুটা সক্রিয় হয়। তবে তাদের অধিকাংশ কর্মসূচীই হয় ধর্মীয় বিষয়গুলোকে সামনে রেখে। বিপরীতে বিএনপি বরাবরই তাদের দলীয় কর্মসূচী নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। আর তাদের এই দুরদর্শীতার অভাব দলকে জনবিচ্ছিন্ন করে তুলেছিলো। চলতি বছরে কমিটি গঠনের পাশাপাশি নিত্যপন্যের দাম নিয়ে সরব হওয়ায় বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে দলটিতে। প্রকাশ্যে সভা সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন করতে পারছেন। দীর্ঘ কয়েকবছর পর সমাবেশ করতে পেরে উচ্ছাসিত হয়েছেন নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের মাঝে তৈরী হয়েছে মিলনমেলা। বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারও মিছিল নিয়ে সভা সমাবেশে যুক্ত হতে পারবেন তা অনেকের কাছে ছিলো কল্পনাতীত।

বিএনপির কর্মীদের মতে, রাজনৈতিক দল মানেই গণমানুষকে নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু এতদিন এই সাধারণ বিষয়টি নেতাদের মাথায় আসেনি। পরিস্থিতি বুঝে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ তাও বুঝতে পারেননি। দীর্ঘ দশ বছর পর সেই গণদাবীতে যুক্ত হওয়ায় আবার বেড়েছে দলের নেতাকর্মীদের আনাগোনা। আর এভাবে গণদাবী নিয়ে সরব হলে এবং কর্মসূচী রেখে দলকে চাঙ্গা করতে পারলে দলের জন্য ভালো ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শান্তিপূর্ন কর্মসূচী ও অহিংস আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপির সরব হওয়াটা নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক। এতদিন কেবল আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ ছিলো নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপট। সিটি নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী অবস্থা আশাবাদী করেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। আগামীতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং ভুল সিদ্ধান্ত পরিহার করে গণদাবীর রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারলে পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থান ফিরে পেতে খুব বেশী বেগ পেতে হবে না বিএনপিকে।

সুত্রঃ দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম


Leave a Reply

Your email address will not be published.