চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় সম্মেলন, কে হবেন সাধারণ সম্পাদক?

চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় সম্মেলন, কে হবেন সাধারণ সম্পাদক?

চলতি বছরের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আজ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইতিমধ্যে জাতীয় সম্মেলনের জন্য আওয়ামী লীগ তার প্রস্তুতিও শুরু করেছে। বিভিন্ন জেলাগুলোতে অনিষ্পন্ন কমিটি গঠন চূড়ান্ত করার কাজ এখন এগিয়ে চলছে,

জেলায় জেলায় সম্মেলন হচ্ছে এবং নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সম্মেলন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন মানেই দলের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে আলাপ-আলোচনা। কারণ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলটির সবচেয়ে জনপ্রিয়তম ব্যক্তি।

তাই দলের একজন নেতাকর্মীও শেখ হাসিনার সভাপতি পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না এটা নিশ্চিত। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনা যতদিন থাকবে ততদিনই তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই।

ফলে সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের পদটি হয় মূল আলোচনার বিষয়বস্তু। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের টানা দুইবার জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে এসে তার অসুস্থতা এবং দলের নেতকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এবার যে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন না এটি মোটামুটি নিশ্চিত। আর এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরকম আলোচনায় অনেকগুলো নাম নিয়েই কথাবার্তা হচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। যাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সেরকম কয়েকজনের মধ্যে রয়েছে:

জাহাঙ্গীর কবির নানক: এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত নাম জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল এবং সরকারকে আলাদা করার যে কৌশল গ্রহণ করেছেন, সেই কৌশলের আলোকে জাহাঙ্গীর কবির নানকই সবার থেকে এগিয়ে আছেন। কারণ তিনি সংসদ সদস্য নন, দলের ত্যাগী-পরীক্ষিত একজন নেতা। তিনি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন, ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, যুবলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন, এখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। কাজেই, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতাকর্মীদের মধ্যে তার নামই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

মাহবুবউল আলম হানিফ: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুবউল আলম হানিফের নামও আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার রাজনৈতিক পরিপক্বতা সবার নজর কেড়েছে। বিশেষ করে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি অনেকটা ইতিবাচক বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন। এজন্য অনেকেই ধারণা যে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মাহবুবউল আলম হানিফ আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ড. আব্দুর রাজ্জাক: ড. আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি একাধারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। আর দলের বাইরেও তার একটা আলাদা ইমেজ এবং সুনাম রয়েছে। তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দলের তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুব একটা নেই। রাজনীতিতে এসেছেন অনেক দেরিতে, আগে ছিলেন প্রকৃচির নেতা। এ সমস্ত বিবেচনা থেকে একজন গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদ হওয়ার পরও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে তিনি কিছুটা পিছিয়ে বলেই মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ড. হাছান মাহমুদ: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, তিনি দলের অন্যতম মুখপাত্রও বটে। আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে তার রাজনীতিতে উত্থান হয়েছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং সাংগঠনিক বিষয়ে তিনি এখন ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। এজন্য ড. হাছান মাহমুদ যদি শেষ পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক হন তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবাক হবেন না। দীপু মনি: ডা. দীপু মনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তেমন প্রভাবশালী না হলেও শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। এ কারণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার নামও শোনা যায়। এছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাহাউদ্দিন নাছিম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজমসহ কয়েকজনের নাম বিভিন্নভাবে আলোচিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক কে হবেন তা চূড়ান্ত করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার


Leave a Reply

Your email address will not be published.