সিলেটে যে কারণে আস্থায় ছিলেন এডভোকেট গফ্‌ফার ও কামরুল

সিলেটে যে কারণে আস্থায় ছিলেন এডভোকেট গফ্‌ফার ও কামরুল

রাজনীতি: ২০১৯ সালের শেষ দিকে যখন সিলেট বিএনপি’র কমিটি গঠন করা হয় তখন আহ্বায়ক হতে অনেককেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যোগ্য অনেক নেতাই তখন পাশ কাটিয়ে যান।

আবার কেউ কেউ আড়ালে মুখও লুকিয়ে ফেলেন। তখন আহ্বায়ক হওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন সিলেট জেলা বিএনপি নেতা কামরুল হুদা জায়গীরদার।

তিনি বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হলেও সিলেট বিএনপি’র রাজনীতিতে সিনিয়র নেতা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। জেলার সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রায় আড়াই বছর সিলেটে দলকে পরিচালনা করেছেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমালোচনাও তাকে নিয়ে কম হয়নি। নানা সময় তার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিমত, ভিন্নমত তৈরি হয়।

কিন্তু কামরুল হুদা জায়গীরদার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১৮টি ইউনিট গঠন নিয়ে তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। দলের গ্রুপিং, নেতাদের দ্বন্দ্ব প্রায় সব উপজেলাতেই ছিল।

এ কারণে দল গঠনে তাকে বেগ পোহাতে হয়। সর্বশেষ সিলেট জেলা বিএনপি’র সম্মেলন নিয়ে তীব্র চাপের সম্মুখীন হয়েছিলেন জায়গীরদার। বাদপড়া ইউনিটগুলোর সম্মেলন ও কাউন্সিল করা,

জেলা বিএনপি’র কাউন্সিলের তালিকা হাল নাগাদ করা এবং সম্মেলন, কাউন্সিলের আয়োজন করা ছিল চ্যালেঞ্জ। এই অবস্থা থেকে উতরে গেছেন সিলেট বিএনপি’র এ ত্যাগী নেতা কামরুল হদা জায়গীরদার। তার নেতৃত্বেই সিলেট জেলা বিএনপি সফল সম্মেলন ও কাউন্সিল শেষ করেছে। তার নেতৃত্ব এবং আয়োজন নিয়ে দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তার প্রশংসা করেছেন।

কামরুল হুদা জায়গীরা জানিয়েছেন- এবার সিলেট জেলা বিএনপি তৃণমূল থেকে সাজানো হয়েছে। জেলার একশ’টির উপরে ইউনিয়নের সম্মেলন ও কাউন্সিল ভোটের মাধ্যমে করা হয়েছে। তার আগে ওয়ার্ড পর্যায়ে হয়েছে কাউন্সিল। ইউনিয়ন শেষ করে উপজেলা ও পৌরে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। করোনার ফাঁকে ফাঁকে এসব করা হয়। এবার যখন লকডাউন তুলে নেয়া হলো তখন আর সময় নেয়া হয়নি। মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে সব শেষ করে জেলার সম্মেলন করা হয়।

তিনি জানান, দল আমার ওপর আস্থা রেখেছিল। দিনশেষে আমরা সবাই দলের। এ কারণে দলের স্বার্থকে আগে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দলের ক্ষতি হয় এমন কিছু করিনি। সিলেটে এম ইলিয়াস আলীর আস্থাভাজন নেতা ছিলেন এডভোকেট আব্দুল গফ্‌ফার। এম ইলিয়াস আলী সিলেট জেলা বিএনপি’র যে কমিটির সভাপতি ছিলেন সে কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এডভোকেট গফ্‌ফার। একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ সিলেটের রাজনীতিতেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ইলিয়াস আলী গুমের পর বয়সের কারণে রাজনীতিতে তেমন সরব নন এডভোকেট গফ্‌ফার। এরপরও দলের প্রয়োজনে তিনি এগিয়ে আসেন, কাজও করেন।

এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এডভোকেট আব্দুল গফ্‌ফারকে এবার সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন আরেক বিএনপি নেতা সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি এটিএম ফয়েজ। দু’জনের টিমওয়ার্ক ছিল ভালো। জেলা বিএনপি’র সম্মেলনের শেষ দিকে এসে নাটকীয়তা দেখা দেয়। এতে করে উত্তাপ-উত্তেজনাও দেখা দেয়। এই সময় শক্তহাতে নির্বাচন পরিচালনা করেন সিলেট বিএনপি’র এই ত্যাগী নেতা। কাউন্সিলরদের কাছেও তিনি ছিলেন শ্রদ্ধারপাত্র। এ কারণে প্রার্থী ও কাউন্সিলরা এডভোকেট আব্দুল গফ্‌ফারকে মানেনও। এবারের কাউন্সিলে ১৮টি ইউনিটের কাউন্সিলর ছিলেন ১৮১৮ জন। ফলে কাউন্সিলে ভোট গ্রহণ চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল। এতো ভোট এর আগে বিএনপি’র কাউন্সিলে নেয়া হয়নি। ফলে এই কাউন্সিল নিয়ে আগ্রহ ছিল সব মহলে। এডভোকেট আব্দুল গফ্‌ফার এ চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছেন। কাউন্সিল শেষ হয়েছে বিতর্কহীন ভাবে। এবং কাউন্সিল নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি। তবে এতে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন। এডভোকেট আব্দুল গফ্‌ফার জানিয়েছেন, সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা ছাড়া এই দায়িত্ব পালন সম্ভব হতো না। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির নেতারা নিজ থেকে এগিয়ে এসে নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া দলের নেতাকর্মীরাও সহযোগিতা করেছেন। এ কারণে সিলেট জেলা বিএনপি’র কাউন্সিলে দিন শেষে জয় হয়েছে বিএনপি’র।


Leave a Reply

Your email address will not be published.