আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন কোন ছেলেরই এমন ব্যাপারগুলো সমর্থন করা উচিত না

আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন কোন ছেলেরই এমন ব্যাপারগুলো সমর্থন করা উচিত না

কিছুদিন আগে একজন ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- “আচ্ছা, বিয়ের সময় শ্বশুড়বাড়ি থেকে গিফট/উপঢৌকন হিসেবে যৌতুক নেয়াকে কি আপনি সমর্থন করেন??”

তখন উনি বলেছিলেন- “আমি যদি বিশ বছরের একটা মেয়েকে বিয়ে করি, তাহলে কম করেও যদি বছরে এক লাখ টাকা করে হিসেব করি, তাহলে মেয়ের পেছনে বাবা-মায়ের

কষ্টার্জিত উপার্জনের বিশ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আর ত্রিশ বছরের মেয়ে হলে ত্রিশ লাখ টাকা। আমার সামর্থ্য থাকলে টাকাটা মেয়ের বাবাকে আগে পরিশোধ করে, তারপর তার

মেয়েকে বিয়ে করতাম।” আমার এক বান্ধবীর বিয়ের সময় তার বর বলেছিল-“পরের বাড়ির ফার্নিচার আমি কেন নিব?? আমার ঘরে কি ঘুমানোর জন্য খাট নাই??” -ব্যাপারগুলো ভালো লেগেছিল।।

বস্তুতপক্ষে আমি মনে করি, একজন বাবা-মা, একটা মেয়েকে পরম যত্নে লালন-পালন করে, শিক্ষিত এবং যোগ্য করে গড়ে সমস্ত দাবী তুলে নিয়ে মেয়েকে একটা ছেলের সাথে বিয়ে দেয়।

সেই বাবা-ই আবার কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা হিসেবে নিজের বাকি জীবনে ঋণগ্রস্ত বনে যান মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে গিয়ে!! -এটা পৃথিবীর সবচেয়ে অমানবিক আর অযৌক্তিক নিয়ম!!

আমি মেয়ে হিসেবে না, প্রথমে বরপক্ষ হিসেবে এই নিয়ম ভেঙ্গে আমার ভাইয়ের বিয়ের সময় আমরা ভাবীর বাসা থেকে ঘর সাজানোর একটা শো পিসও নেইনি। বিয়ের দিন ভাবীর মামা একসেট গয়না আম্মুর হাতে তুলে দিচ্ছিলেন।

আম্মু তখনি বলেছেন, আমরা তো কোন যৌতুক চাইনি ভাই!! তখন মামা বলেছেন, এটা মেয়ের জন্য গিফট। আম্মু তখন বলেছেন, তাহলে এটা মেয়ের হাতেই দিন।। উলটা আমাদের পক্ষ থেকে বিয়ের কার্ডে আমরা লিখে দিয়েছিলাম- “Plz don’t bring any gift.”

গিফটের আশায় বিয়ের অনুষ্ঠান করার ভেতরও আসলে শর্ত ছাড়া কোন আশীর্বাদ থাকে না।। আচ্ছা, যে ছেলেপক্ষরা বিয়ের সময় কনেপক্ষের কাছ থেকে ফার্নিচার গিফট হিসেবে নেয়, তারা কি খাটে ঘুমায় না?? তাদের বাসায় কি কোন ফার্নিচার থাকে না?? যদি না থাকে তাহলে পরের বাড়ির ফার্নিচার এনে ফুটানি দেখানোর কোন মানে হয়না।। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন কোন ছেলেরই এমন ব্যাপারগুলো সমর্থন করা উচিত না।।

আর যে মেয়ের বাবা-মা মনে করেন, এসব দিলে শশুড়বাড়িতে মেয়ের দাম বাড়বে, তারা কি জানে, মুলতঃ এইসব জিনিসই মেয়েটার গুনাবলী আর যোগ্যতাকে লেনদেনের কাঠগড়ায় এনে মেয়েটাকে পন্যের সমান করে দিচ্ছে??

আর এভাবে মেয়ের দাম আর যৌতুকরুপী উপহারের বিনিময়ে ছেলেপক্ষ যে আসলে নিজেদের আত্মসম্মানবোধকে নিলামে তুলে মূলত ছেলেটাকে বিক্রী করছে, এটা তারা কেন বোঝে না??
প্রত্যেকটা বাবা-মায়ের আদরে লালিত প্রত্যেকটা মেয়েই নিজগুনে অনন্যা। বিয়ের সময় তাকে পন্যের সাথে তুলনা করে অভিনব কায়দায় যৌতুক দেয়া বন্ধ করুন।
ইসলামে আছে- “যে বিয়েতে খরচ কম হয়, সে বিয়ে ততো বরকতময়।”
যৌতুক বিরোধী মনোভাব গড়ে তুলুন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.