এক ইস্যুতে দুই ভাইয়ের ভিন্নমত


নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান সড়কে হকার যে গলার কাঁটা তা অনেক আগেই বুঝেছিলেন নাসিক মেয়র আইভী। আর তাই ফুটপাত পরিস্কার রাখার পক্ষে ছিলেন শুরু থেকেই।

তবে হকারদের প্রতি মায়া কান্না দেখানোর আড়ালে শহরের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলো একটি মহল। আর সেই কারনেই হকার নিয়ে বিরোধ গড়ায় সংঘর্ষ পর্যন্ত। তবে এই লড়াইয়ে আইভীর হার মানতে হলেও

সাধারণ মানুষের মন ঠিকই জয় করে নিয়েছিলেন তিনি। এবার হকার সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন সেলিম ওসমান। তিনি ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে পুলিশকে বলেছেন।

যদিও ৩ মার্চ এ হকারদের পক্ষে থাকতে পরোক্ষভাবে তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীদের আহবান রেখেছিলেন শামীম ওসমান।‌‌ ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল। মাঝে কেটে গেছে চারটি বছর।

বরাবরের মত হকার নিয়ে ইঁদুর বেড়াল খেলা আর মাঝে মধ্যে হকার উচ্ছেদ দেখেছে নগরবাসী। কয়েকদিন যেতেই আবার পুরোনো চেহারায় ফিরেন তারা। তবে গত তিন বছরে আইভী ছাড়া আর কোন জনপ্রতিনিধি প্রশাসনের কাছে হকারদের বিরুদ্ধে মতামত পেশ করেননি।

কেবলমাত্র আইভী, গণমাধ্যম এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক দলগুলো হকারদের বিরুদ্ধে ধারবাহিক অবস্থান ও সমস্যার কথা তুলে ধরেছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আগের তুলনায় যানজন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছুটির দিনগুলোতেও দেখা যায় তীব্র যানজট।

হকার, অটোরিকশা ও অবৈধ রিকশার কারনে পুরো শহর স্থবির হয়ে পরে। এনিয়ে সমালোচনা উঠলেও প্রশাসনকে সেভাবে তৎপর দেখা যায়নি এতদিন। মাঝে একদিন প্রায় অর্ধশত ইজিবাইক আটক করে জরিমানা করা হলেও কিছুদিন পরেই দেখা গেছে ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল। কার্যত খুব একটা লাভ হয়নি এই অভিযানে।

তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন করে আরেক জনপ্রতিনিধি এবার হকারের বিপক্ষে মুখ খুলেছেন। তাও আবার প্রভাবশালী ওসমান পরিবার থেকেই। গত ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হকার ও যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেন নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান। এদিন তিনি বলেন, ‘রমজান মাসে যাতে করে নগরবাসীকে যানজটের দুর্ভোগ না পোহাতে হয়, সে ব্যবস্থা নিবেন। ফুটপাতে যেন কোন দোকানপাট বসতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ মাত্র দুই তিনশ মানুষের জন্য হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ কাম্য নয়।

পাশাপাশি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডের নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ রেখে বলেন আপনারা মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও সেন্ট্রাল বাস টার্মিনালে যানজট নিয়ন্ত্রনে রাখবেন, প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দিয়ে হলেও রমজান মাসটিতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করবেন। শুধু তাই নয়, যানজট নিরসনের জন্য ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ৩টি চেকের মাধ্যমে ১০লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা। উক্ত সহযোগীতার অর্থ দিয়ে রমজান মাসে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নগরীকে যানজট মুক্ত রাখা হবে।ওসমান পরিবারের পক্ষ থেকে ফুটপাতে দোকানপাট বসতে না পারার অনুরোধ করা কার্যত হকার উচ্ছেদকেই নির্দেশনা দেয়।

দীর্ঘ চার বছর হকার সমস্যা সমাধানে যেই দাবী জানিয়েছেন তা আইভীর দাবীকেই আগের চাইতে জোড়ালো ভাবে উপস্থাপন করে। তবে এই উচ্ছেদ অভিযান কেবল রমজান জুড়ে নয়, সারাবছরই অব্যহত রাখার দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেলিম ওসমান যদি এই দাবী আরও আগেই জানাতেন এবং উদ্যোগ নিতেন তাহলে সবচেয়ে বেশী উপকৃত হতো এই শহরের বাসিন্দারা। মেয়র আইভীর সাথে হকার উচ্ছেদ ও হকার সমস্যা সমাধানে কাজ করলে একই সাথে হকার এবং সাধারণ মানুষ উভয়েই স্বস্থি পেতো। তবে দীর্ঘ ৪ বছর পর একই দাবীতে সরব হওয়াটা আশাবাদ জাগায় সকলকে। রমজানের পরেও এই দাবীতে অটুট থাকবেন সাংসদ এমনই প্রত্যাশা সকলের। জানা গেছে, জেলা পুলিশ প্রশাসন ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গিয়ে ফুটপাত ফাকা করে দেয়। আর প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান মেয়র আইভী। কোন ভাবেই ফুটপাতে বসতে ব্যর্থ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন হকাররা। এর ধারবাহিকতায় ৩১ ডিসেম্বর মেয়র আইভীকে স্মরকলিপি প্রধান করেন।

ওই বক্তব্যের পরই কঠোর হয়ে হকাররা। একের পর এক কর্মসূচি ও স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান এবং সেলিম ওসমানের কাছে যান। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হকারদের সমাবেশে শামীম ওসমান হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার জন্য পক্ষে বক্তব্য দেন। আর পরদিনই হকারা মেয়র আইভীর উপর হামলা চালায়। যেখানে যুক্ত হয় শামীম ওসমানের অনুগামী নেতাকর্মীরাও। ইট পাটকেলের সঙ্গে গুলি করা হয় মেয়র আইভীকে লক্ষ্য করে। সেসময় মেয়র আইভী সহ অর্ধশতাধিক তার অনুগামী নেতাকর্মী আহত হয়। এছাড়া পরেও প্রায়শই হকারদের পক্ষেই কথা বলেন শামীম ওসমান। ৩ মার্চ সরকারি তোলারাম কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান বলেছেন, আমি নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদের তারুণ্য দেখি না। যখন গরিবের পেটে লাথি মারা হয় শ্রমিকের পেটে লাথি মারা হয়, কোথায় থাকে ছাত্র সমাজ। ছাত্র সমাজ ফিস ফিস করে কথা বললে জীবনেও সামনে এগুতে পারবেন না। বাংলাদেশের পটপরিবর্তন করেছে ছাত্রসমাজ। আপনারা কেমন যেন মিনমিনে হয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম


Leave a Reply

Your email address will not be published.