কপালে টিপ দিয়ে প্রতিবাদ জানালেন অভিনেতা


‘টিপ পরা’ নিয়ে উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার।

এ ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। ওই কলেজ শিক্ষিকার অভিযোগ- রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা

থেকে হেঁটে কলেজে যাওয়ার সময় হুট করে পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা একজন ‘টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন তাকে।

মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তির পরনে পুলিশের পোশাক। ঘটনার প্রতিবাদ জানালে একপর্যায়ে কলেজ শিক্ষিকার পায়ের ওপর দিয়ে বাইক চালিয়ে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি।

এ ঘটনায় উত্তপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া। সচেতন মহলের নাগরিকরা তাদের অবস্থান থেকে জানাচ্ছেন প্রতিবাদ। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় রোববার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ছোট পর্দার

অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক জানিয়েছেন অভিনব প্রতিবাদ। তিনি নিজের কপালে টিপ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টে কিছু না লিখলেও নিরবভাবেই

কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার সেই পোস্টে জমা পড়েছে নেটজনতার প্রশংসাসূচক বাক্য। বেশির ভাগ নেটাগরিক তার এই প্রতিবাদকে সম্মতি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাধুবাদ দিয়েছেন।

এদিকে এক শিক্ষককে বাজে গালি দেওয়া এবং তার গায়ে মোটরসাইকেলের চাকা তুলে হেনস্তার অভিযোগ ওঠা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও খ্যাতিমান অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। রোববার (৩ এপ্রিল) সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এ দাবি তোলেন।

সংসদে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, দল-মত নির্বিশেষে বিশেষ করে নারী সমাজের জন্য অত্যন্ত ঘৃণিত একটি ঘটনা। ইভটিজিং আমরা শুনে এসেছি। বখাটে ছেলেরা স্কুলের বাচ্চা মেয়েদের ইভটিজিং করে। সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু আমি যখন দেশের আইন রক্ষাকারী কাউকে ইভটিজিংয়ের ভূমিকায় দেখি, তখন সেটা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশের কোন সংবিধানে, কোন আইনে লেখা আছে যে একজন নারী টিপ পরতে পারবে না। এখানে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এমনকি সে বিবাহিত না বিধবা সেটা বিষয় নয়, একটি মেয়ে টিপ পরেছে। তিনি একজন শিক্ষক। রিকশা থেকে নামার পর দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার তাকে টিজ করেছে।

সুবর্ণা মুস্তাফা যোগ করেন, ওই শিক্ষক এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালে তার সঙ্গে তুই-তোকারি করা হয়েছে। তাকে অসম্মান করা হয়েছে। আমি সরকারি দলকে রিপ্রেজেন্ট করি, নাকি বিরোধী দলকে রিপ্রেজেন্ট করি- বিষয়টা এগুলোর ঊর্ধ্বে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন, মানুষ আগে। মানুষের অধিকার আগে। জাতির পিতা বলেছেন, মানুষকে ভালোবাসতে হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.