গতি বাড়াবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাপা

গতি বাড়াবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাপা

রাজনীতি: রমজান মাস এলেই ইফতারকেন্দ্রিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত থাকে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। এর মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যেও সম্পর্ক মজবুত হয়;

কিন্তু এবার তুলনামূলক কম রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সাংগঠনিক কার্যক্রমেই দলগুলো গতি বাড়াতে চায়।

বিএনপি অবশ্য বলছে, তাদের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচনের পর জাতীয় সরকারের পক্ষে জনমত গড়তেও কাজ করবেন দলের নেতারা।

এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বাম জোট। আওয়ামী লীগ : রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে দলীয় কার্যক্রম চালাবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেনÑ মেয়াদোত্তীর্ণ এলাকায় সম্মেলন করার যে নির্দেশনা রয়েছে, সে অনুযায়ীই দেশের সর্বত্র আওয়ামী লীগের কাজ চলবে। সেই সঙ্গে মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায়

যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবার করোনা যেহেতু পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও দল থেকে বলে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ আমাদের সময়কে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বছরজুড়েই সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে থাকে। রমজানের মধ্যেও কার্যক্রম থাকবে। তবে অতীতের মতোই মাহে রমজানে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র মাসে পবিত্রতার বিষয়টি মাথায় রেখে দলীয় কাজ করতে হবে। অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কাজ করতে হবে।’

এ বিষয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘মূলত রমজান মাস ইবাদতের মাস। এ মাসে তেমন বড় কোনো প্রোগ্রাম (কর্মসূচি) সাধারণত রাখা হয় না। এবারও তেমন প্রোগ্রাম থাকছে না। তবে তৃণমূলে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কাউন্সিল, বর্ধিতসভা অব্যাহত থাকবে; যেগুলো ইফতারের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে।’ ক্ষমতাসীন ১৪ দলের আলাদা কর্মসূচি নির্ধারণ হয়নি বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, ‘রমজান ঘিরে আমাদের আলাদা কর্মসূচি এখনো তৈরি করা হয়নি। কর্মসূচি নির্ধারণ করলে আমরা জানিয়ে দিব।’

বিএনপি : রমজান মাসে মাঠের রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি বিএনপি কম নজর দেবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময়টায় ঘর গোছানোর কাজেই বেশি মনোযোগ দেবে দলটি। ওয়ার্ড-ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের কাজ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বিএনপির নতুন ফর্মুলা ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার’ ও ‘নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার’-এর পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে থাকবে নানা কার্যক্রম। এ জন্য ইফতারকেন্দ্রিক কর্মসূচিকেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদেও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি করার চিন্তা রয়েছে দলটির।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, ‘রমজান মাসে চলমান সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও গতি আনা হবে। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নতুন ধারণাÑ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের পক্ষে জনমত গড়তে নানা কর্মসূচি থাকবে।’ চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বলেন, ‘প্রথম রমজানে দলের পক্ষে লেডিসক্লাবে এতিম ও আলেম-ওলামার সম্মানে ইফতার পার্টি হবে। আগামী ১২ এপ্রিল কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার হবে হোটেল ওয়েস্টিনে। রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে ২০ এপ্রিল ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে হোটেল লেকশোরে। পেশাজীবীদের সম্মানে লেডিসক্লাবে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল। এ চারটি বাদে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকেও একাধিক ইফতার পার্টির আয়োজন করা হবে।’ ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ‘রমজান মাসে ওয়ার্ড কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হবে।’

জানা গেছে, বিএনপি ছাড়াও ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকরা একাধিক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবে। এসব ইফতারে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সবার সঙ্গে একটা সেতুবন্ধ তৈরির চেষ্টা করা হবে বলে বিএনপি নেতারা জানান। জাতীয় পার্টি : জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে দলীয়ভাবে ইফতার পার্টি করা হবে। পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রম আগের মতোই চলবে, যার যা দায়িত্ব তা পালনের জন্য আমি নিদের্শনা দিয়েছি।’ বাম জোট : বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সরকারের নানাবিধ ব্যর্থতার কারণে আমাদের যে কর্মসূচি আছে, তা রমজানেও চলমান থাকবে। এর সঙ্গে যোগ হবে শিল্পাঞ্চলের অসন্তোষের বিষয়টি। শ্রমিকরা যেন তাদের ন্যায্য পাওনা ঈদের আগেই শতভাগ পেয়ে যান; সে বিষয়টি নিয়েও আমাদের আন্দোলন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া আরও বড় কোনো কর্মসূচি দেব কিনা, তা জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে।’ সাইফুল হক জানান, রমজানের বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের সব কর্মসূচি হবে দিনের শুরুর দিকে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.