বিএনপি চাঙ্গা আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব

বিএনপি চাঙ্গা আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব

ঢাকার ধামরাইয়ে তিন দশক পর বিএনপি সুসংগঠিত হয়েছে, সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। নতুন নেতৃত্বে বিএনপির মাঝে প্রাণ ফিরেছে।

চড়াই-উৎরাই পেড়িয়ে চাঙা হয়ে উঠেছে নেতাকর্মীরা। তারা এখন উজ্জীবিত। অপরদিকে আওয়ামী লীগে দুই নেতার দ্বন্দ্বে নেতাকর্মীরা বিভক্ত। একে অপরের বিষোদগার করছেন।

নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেই কোনো কমিটি। ফলে দুর্বল হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক গতি।

বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে, একসময় চারবারের এমপি ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খানের সঙ্গে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ছিল তমিজ উদ্দিনের। উপজেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।

জিয়াউর রহমান খান মারা যাওয়ার পর তমিজ উদ্দিনের কাছে একক নেতৃত্ব চলে আসে। তিন দশক পর গত (২৯ মার্চ) সপ্তাহে ধামরাইয়ে সমএলনের মাধ্যমে বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

১৬টি ইউনিয়নের হাজারো নেতাকর্মী নির্ভয়ে যোগদান করে এ সম্মেলনে। হাজারো নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত সমর্থনে কণ্ঠভোটে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তমিজ উদ্দিনকে সভাপতি

ও সামসুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করে ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এর আগে ১৬টি ইউনিয়নে কর্মিসম্মেলন করা হয়। প্রতিটি ইউনিয়নে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি তমিজ উদ্দিন বলেন, ধামরাইয়ের বিএনপি আগের চেয়ে সাংগঠনিকভাবে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। সরকার পতন আন্দোলনে এ শক্তিকে কাজে লাগানো হবে।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, দুই নেতার দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। চলছে গৃহবিবাদ।

বর্তমান এমপি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমদ ও সাবেক এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মালেকের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে চলছে তাঁদের বৈরী সম্পর্ক। নিজস্ব বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করেন তাঁরা। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কথা ভুলে তাঁরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। এতে নেতাকর্মীরাও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছে। দুই নেতার দ্বন্দ্বে অনেকে রাজনীতি থেকে সরে গেছেন।

আসন্ন কাউন্সিলকে ঘিরে উভয় গ্রুপ প্রস্তুতি নিচ্ছে। রমজান মাসে ১৬টি ইউনিয়নেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে এম এ মালেক। অপরদিকে বেনজীর আহমদও নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতার পার্টি করার ঘোষণা দিয়েছেন। মালেককে বাদ দিয়েই ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি করা হয়েছে ২০২০ সালে। বেনজীর আহমদের নেতৃত্বে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করা হয়। এরপর উপজেলা কাউন্সিলের তারিখ এমনকি ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মঞ্চও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বাধ সাধেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মালেক। তাঁর নালিশে বন্ধ হয়ে যায় কাউন্সিল। এম এ মালেকও তাঁর বলয়ের নেতাকর্মী নিয়ে আলাদাভাবে কমিটি তৈরি করেন।

এম এ মালেক যখন এমপি ছিলেন তখন বেনজীর আহমদকে কোনো অনুষ্ঠানে অতিথি করেননি তিনি। কেউ অতিথি করলে তাতে বাধা দিয়েছেন এমনকি ব্যানার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বেনজীর আহমদও একই পথ অনুসরণ করছেন। এতে দিনদিন নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয়ভাবে দুই নেতাকে এক মঞ্চে না নিতে পারলে দল যেমন শক্তিশালী হবে না তেমনি আগামী সংসদ নির্বাচনেও ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে বলে অধিকাংশ নেতাকর্মীরা মনে করেন।

এম এ মালেক বলেন, ‘বেনজীর আহমদে জনবিচ্ছিন্ন এক নেতা। তাঁর কারণে ধামরাইয়ের আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়ে পড়েছে আর বিএনপি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।’ এদিকে বেনজীর বলয়ের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু বলেন, ‘২০২০ সালে এম এ মালেকের স্বাক্ষরযুক্ত শিডিউলে প্রতিটি ইউনিয়নে সম্মেলন করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো সম্মেলনে আসেননি। দুই নেতার নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে। তবে আগের তুলনায় আওয়ামী লীগ এখন শক্তিশালী।’
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন। তিনিও বেনজীর আহমদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। মিজানুর রহমানও আলাদা কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.