খেয়ে যান, যা ইচ্ছা তাই দেবেন, না থাকলে না দেবেন

খেয়ে যান, যা ইচ্ছা তাই দেবেন, না থাকলে না দেবেন

রাত দুইটা, রাজধানীর গ্রিন রোডের শেষ মাথায় কিছু যুবক দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ডাকছেন।

আর বলছেন, ‘আসেন খেয়ে যান, কিছু দিতে চাইলে দেবেন, না দিলেও চলবে তবে খেয়ে যান।’

আয়োজন হয়েছে ভাত, ডাল এবং মুরগির মাংস। রমজানে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে সেহরি করানোর

লক্ষ্যেই এই আয়োজন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘আম জনতার হোটেল’। রিকশাওয়ালা, ভ্যানচালক, কিংবা আশপাশে

বিভিন্ন বাসায় কাজ করা মানুষ এখানে আসছেন এবং খেয়ে যাচ্ছেন। যে যার মতো ভাত, ডাল, মাংস বেড়ে নিচ্ছেন।

সোমবার (৪ এপ্রিল) দ্বিতীয় রোজায় মধ্যরাতে দেখা যায় এই চিত্র। গ্রিন রোডে বাসা তাহমিদ হাসানের। তিনি বেসরকারি একটি এনজিওতে চাকরি করেন। তার সঙ্গে কথা হয় ।

তাহমিদ জানান, তিনি ও তার বন্ধু রাফিউল মাহমুদ চৌধুরী মিলে এই কার্যক্রম শুরু করেন। যাদের হোটেলে গিয়ে খাওয়ার সামর্থ্য নেই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেন।

তিনি বলেন, আমাদের এই কার্যক্রম ২০২০ সাল থেকে শুরু হয়। করোনার মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি চলেছে। রমজান ছাড়াও সারা বছর চলে কার্যক্রম। আমাদের সঙ্গে অনেকেই আছেন, যার স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন।

এত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতে যে অর্থের প্রয়োজন তা কীভাবে আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের অর্থের মূল যোগানদাতা সাধারণ মানুষই। এমন কোনো দিন হয়নি যে আমরা অর্থের কারণে আটকে আছি। তবে যদি ভালো কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সহযোগিতা করে, তাহলে এই কাজ আমরা আরও এগিয়ে নিতে পারবো।

অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরে দুয়ারীপাড়া এলাকায় সেহরি বণ্টন করেছে সামাজিক সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। দুয়ারীপাড়ায় বস্তির ঘরে ঘরে গিয়ে সেহরির জন্য প্যাকেট করা খাবার পৌঁছে দেয় তারা। সংগঠনটির এক সহযোগী জাগো নিউজকে জানান, প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেন তারা।


Leave a Reply

Your email address will not be published.