টিপকাণ্ডে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুরুষ নারী হয়ে যাচ্ছে

টিপকাণ্ডে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুরুষ নারী হয়ে যাচ্ছে

নিউজ ডেষ্ক- টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে টিপকাণ্ড। তেজগাঁও কলেজের শিক্ষিকাকে হেনস্তার প্রতিবাদে সরব বিভিন্ন মহল। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে টিপ পরা ছবি দিয়ে

অন্তর্জালে ঝড় তুলেছেন। শুরু হয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা। এ বিষয়ে সোমবার (৪ এপ্রিল) রাতে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের অভিমত তুলে ধরেছেন ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূর সাগর।

বিতর্কিত বিষয়টির এপিঠ-ওপিঠ নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- পাগলের দেশে বসবাস আমার। আমিও পাগল। আমার দেশটাও পাগল। থুক্কু! দেশ পাগল না।

দেশের মানুষগুলি পাগল। ইঞ্জিনিয়ার হয় পুলিশ। ডাক্তার হয় কাস্টমস কর্মকর্তা। উকিল হয় ব্যাংকার। আবার এদিকে বুদ্ধিজীবিরা বুদ্ধি বিক্রি করে রুটির তাগিদে। পার্লামেন্ট কাঁপে টিপ নিয়ে।

অথচ রেপ ইস্যুতে সবার মুখে কুলুপ আঁটে। প্যান্টের ওপর জাঙ্গিয়া পরে সুপারম্যান হওয়ার মতন অবস্থা! টিপ নিয়ে কটুক্তি করার অধিকার কারো নাই। ব্যক্তি স্বাধীনতা। মানুষ তার নিজস্ব রুচিতে চলবে।

কেউ কটুক্তি করলে তার শাস্তি হবে। ব্যাস! খেল খতম। এটা নিয়ে সুবর্ণা আপা পার্লামেন্ট কাঁপালেন। যেন এই রাষ্ট্র নারীর টিপ দেবার অধিকার হরণ করেছে। কোথাকার কোন পুলিশ কটুক্তি করছে, তার বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করা হতো।

এখন তো বিষয়টা যেভাবে দেখানো হল, তাতে মনে হচ্ছে এই দেশ আফগানিস্তান। এখানে নারীর অধিকার খর্ব করা হয়। নারীরা স্বাধীনভাবে চলতে পারে না। অথচ এই দেশের আইনগুলোও নারীবান্ধব। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা পুরুষের ওপর বারডেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, যৌতুক আইন নারীরা একরকম অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করে। ইভটিজিং তো একটা আছেই। আমি বলছি না, এই আইনগুলোর দরকার নাই। বুঝাতে চাচ্ছি, এই দেশে নারীরা সর্বোচ্চ অধিকার এক্সেস করার সুযোগ পায়। পুরুষদের হিংস্রতা থেকে নারী রক্ষার্থেই এসব আইন। দেখেন আইন কেমন নারীবান্ধব!

একটা মারাত্মক অ্যাবসার্ড আইনের কথা বলি। পরকীয়া করলে নারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা করা যায় না। বরং যে পুরুষ পরকীয়া করলো তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় মামলা করা হবে। পুরুষটির পাঁচ বছরের সাজা। দুই হাতে তালি বাজে। দোষ হয় এক হাতের। যাক, আসল কথায় আসি। আমি নারী বিদ্বেষী না। নারীর প্রতি শ্রদ্ধার কোন কমতি নাই। আমার মা, বউ এবং একমাত্র সন্তানের জেন্ডারও নারী।

নারীর অধিকার রক্ষা করা, তাদের নিরাপত্তা বিধান করা পুরুষদের অবশ্য কর্তব্য। এখানেও তর্ক শুরু করতে পারে কেউ কেউ। নারীর অধিকার পুরুষ কেন রক্ষা করবে? নারীর অধিকার নারী নিজেই রক্ষা করবে। যুক্তি মেনে নিলাম। কিন্তু যুগ যুগ ধরে মশাই পুরুষরাই নারীদের রক্ষা করে। বায়োলজিক্যালি পুরুষরা শক্তিশালী। প্রাচীন যুগ থেকে তাই হয়ে আসছে। এটা নিয়ে বিতর্ক মানে কুতর্ক।

অন্যদিকে পুরুষরা ইচ্ছেমতো টিপ পড়তেছে। এটা নাকি প্রতিবাদ! প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুরুষ নারী হয়ে যাচ্ছে। আজব ব্যাপার স্যাপার! ধরেন, নারীর মিন্সট্রুয়েশান নিয়ে কোন পুরুষ কটুক্তি করলো। ইনফ্যাক্ট আগে নাকি এমন করতো। ওই নারীদের ব্যবহারিক প্যাড নিয়ে পাউরুটি-টাউরুটি বলে কটুক্তি করতো। এর বিপরীতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুরুষরা কি মিন্সট্রুয়েশানের ব্যবস্থা বা প্যাড পরা শুরু করবে? এসব অদ্ভুত আচরণ! এমন প্রতিবাদে নারীর অধিকার রক্ষা হয় না, বরং খর্ব হয়। এদেশের নারীবাদীরা অদ্ভুত ক্যাটাগরির! এদের ন্যারেটিভ কনফিউজিং। কয়েকদিন আগে রাস্তায় নারী গুলি খেয়ে মরলো, নো প্রতিবাদ। ছোট্ট মেয়ে শিশু রেপ হয়, নো প্রতিবাদ। টিপ নিয়ে কটুক্তি হলো, মহা প্রতিবাদ। মানুষের ফ্রিডম অব চয়েজ নষ্ট হলে প্রতিবাদ তো হবেই। তাই না! আচ্ছা, নারী হিজাব পরলে দোষ! তখন ফ্রিডম অব চয়েজ সিন্দুকে তালা মেরে রাখেন। তাই তো! হ্যাঁ, ঠিক। এসব অদ্ভুত প্রাণীগুলোই আমাদের দেশের নারীবাদী। সো কল্ড বুদ্ধিজীবি!


Leave a Reply

Your email address will not be published.