স্ত্রীর মামলায় বরগুনার পুলিশ পরিদর্শক কারাগারে, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


দেশজুড়ে: বরগুনার তালতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী প্রতাপপুর গ্রামে।

তিনি ২০১৩ সালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত অবস্থায় সেখানে বিয়ে করেন। কনে কালিগঞ্জ উপজেলার

পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের ঠিকাদার মৃত আব্দুল মজিদের মেয়ে তানিয়া আফরিন। একটি সূত্রে জানা যায়, তিনি নির্যাতন করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার মামলায়

পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) রফিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমজি আজম রোববার বিকেলে এ আদেশ দেন।

২০১৩ সালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি বিয়ে করেন। কনে কালিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের ঠিকাদার মৃত আব্দুল মজিদের মেয়ে তানিয়া আফরিন। তিন লাখ টাকা কাবিনে এ বিয়ে হয়।

মামলায় বলা হয়েছে, রফিকুল যৌতুক হিসেবে বিয়ের আগে পাঁচ লাখ ও বিয়ের পর ১৩ লাখ টাকা নেন। এর পরও ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী তানিয়াকে নির্যাতন করেন তিনি।

দাবি করা টাকা না পেয়ে ঢাকায় উত্তরার বাসা থেকে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর তানিয়াকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেন রফিকুলের পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে মীমাংসার জন্য ২৫ ডিসেম্বর

পারিবারিক বৈঠক হলে স্ত্রীকে দোতলায় ডেকে নিয়ে বেদম মারপিট করে চলে যান রফিকুল। তখন তানিয়াকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু জানান,

২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি তানিয়া তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, শাশুড়ি রাহেলা খাতুন, দেবর সাইফুল ইসলাম ও সাইফুলের স্ত্রী নাহারের নামে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা দেন। বিচারক অভিযোগটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

পরে বিচারিক হাকিম ইয়াসমিন নাহার ছয়জনের সাক্ষী নিয়ে রফিকুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান। তিনি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমজি আযম আসামি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল রোববার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানির পর বিচারক জামিন আবেদন বাতিল করে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, জামিন বাতিল হওয়ায় পরিদর্শক রফিকুল ইসলামকে সাতক্ষীরা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.