গাঁজাসহ আটকের পর হাসি দেখে হেসে ফেলেন পুলিশ সদস্যরাও! জানা গেল নেপথ্যের কারণ

গাঁজাসহ আটকের পর হাসি দেখে হেসে ফেলেন পুলিশ সদস্যরাও! জানা গেল নেপথ্যের কারণ

বাংলাদেশ: আজ মঙ্গলবার সকালে চিরিরবন্দর থানা চত্বরে গাঁজাসহ আটকের পর হাসি থামছিল না আসামি কামাল হোসেনের। তার হাসি দেখে হেসে ফেলেন পুলিশ সদস্যরাও।

সাধারণত পুলিশ যখন কাউকে আটক বা গ্রেফতার করে তখন ওই ব্যক্তিকে বিমর্ষ দেখা যায়। কেউ কেউ কেঁদে ফেলেন। তবে পুলিশের হাতে আটকের পর কাউকে হাসতে দেখেছেন?

এমন দৃশ্য তো বিরল। আর এমন বিরল দৃশ্যই দেখলেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার পুলিশ ও সাংবাদিকরা। গাঁজাসহ আটকের পর টানা হাসতে থাকেন কামাল হোসেন (২৭) নামের এক আসামি।

তার হাসি দেখে পুলিশ সদস্য এমনকি উপস্থিত সাংবাদিকরাও হেসে দেন। কিছুতেই তার হাসি থামছিল না। এমন সময় স্থানীয় এক সাংবাদিক আসামিকে জিজ্ঞাসা করেন,

‘হাসছেন কেন?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি গাঁজা খাই, কোনো নেশা করি না। শুধুই গাঁজা খাই। এটা মিথ্যা বলার দরকার নাই। প্রতিদিনই আমাকে গাঁজা খেতে হয়।

এক পুরিয়া গাঁজা কিনতে লাগে ২০ টাকা, দিনে কখনো কখনো ৮০ থেকে ১০০ টাকার পর্যন্ত গাঁজা কিনতে হয়। বারবার গাঁজা কেনা আমার পছন্দ না। তাই একেবারেই অনেকগুলো গাঁজা কিনে বাড়িতে রেখে দিই।

সেগুলো শেষ হয়ে গেলে আবার কিনি।’ গতকাল সোমবার ৪ এপ্রিল দিনগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কামাল হোসেনকে আটক করে। এসময তার কাছ থেকে ৪৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে পুলিশ।

পরে মাদক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। জানা যায়, আসামি কামাল হোসেন চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের ইছামতি ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বরকত আলীর ছেলে। একই রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের মহিরপুর মেম্বারপাড়া এলাকার মৃত মফির উদ্দিনের ছেলে লুৎফর রহমানকে (৩৩) গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে এক কেজি গাজা জব্দ করা হয়।

এ ব্যাপারে এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমার জীবনে কখনো এমন আসামি দেখিনি যে আটক হওয়ার পর এভাবে হাসে। সাধারণত কাউকে আটক করলে কেঁদে ফেলেন। এমন ঘটনা অনেক। অনেকেই মন খারাপ করে থাকেন। কিন্তু এই আসামি একেবারেই ব্যতিক্রম।’ এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রশিদ বলেন, আটক মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.