তৃতীয় লিঙ্গের খপ্পরে পড়ে গো’পনাঙ্গ হারালো কিশোর

তৃতীয় লিঙ্গের খপ্পরে পড়ে গো’পনাঙ্গ হারালো কিশোর

মাদারীপুর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে এক তরুণের পু’রু’ষা’ঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হি’জড়া ও তাদের ভ্যানচালকদের বি’রুদ্ধে।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে তার পরিবার। ভু’ক্তভোগী ওই তরুণের নাম ইয়াসিন মোড়ল ওরফে আরাফাত (১৮)।

তিনি খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর এলাকার রেজাউল মোড়লের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী। এদিকে ঘটনার পর থেকে অ’ভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

ভু’ক্তভোগীর পরিবার, হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার মঠের বাজার থেকে ইয়াসিনকে জোড় করে মাইক্রোবাসে তোলে স্থানীয় হিজড়াদের ভ্যানচালক নুরু বকতি।

পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খুলনার একটি বেসরকারি ক্লি’নিকে। সেখানে ওই কিশোরকে অ’চেতন করে পু’রু’ষা’ঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। পরে অবস্থা খারাপ হওয়ায় রোববার সকালে একটি প্রাইভেটকারে ইয়াসিনকে মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকায় রেখে পালিয়ে যায় অ’ভিযুক্তরা।

খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সোমবার বেলা ১২টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাদারীপুর সদর

হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘ইয়াসিন পুরুষাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রসাবের জন্য আলাদা একটি পাইপ বসানো হয়েছে। ইয়াসিনের অবস্থা গুরুতর। তাকে আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, নারীদের ভঙ্গিতে কথা বলার অভ্যাস ছিল ইয়াসিনের। এ কারণে স্থানীয়রা ইয়াসিনকে পুরুষ হিজড়া বলেও ডাকত। চরগোবিন্দপুর এলাকার খলিল নপ্তির ছেলে ভ্যানচালক নুরুর সঙ্গে ইয়াসিনের ছিল বেশ সখ্যতা। নুরুর ভ্যানে জেলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করত মঠেরবাজার এলাকার জুঁই হিজড়া ও তার দলবল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ইয়াসিনকে জুঁই হিজড়ার স’ঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন নুরু। এরপর থেকে ইয়াসিনকেও স্থানীয় হিজড়াদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা যেত। স্থানীয় হি’জড়া ও তাদের ভ্যানচালক নুরু তাদের দলে নিতেই ওই কিশোরের লিঙ্গ পরিবর্তন করে। ভু’ক্তভোগী ইয়াসিন মোড়ল বলেন, আমাকে চিকিৎসার নাম করে নুরু ও জুঁই হিজড়ারা মিলে জীবনটা শেষ করে দিছে। আমার যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’ ইয়াসিনের দাদি ফুলজান বিবি বলেন, ‘আমার নাতির জীবনে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। ওর আচরণ কিছুটা মেয়েলি হলেও পু’রুষ মানুষ ইয়াসিন। যারা আমার নাতির এত বড় ক্ষ’তি করল আমরা তাদের বিচার চাই।’

স্থানীয় আবুল হোসেন খান বলেন, এমন অমানবিক ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা উচিত। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা জানা নেই। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে ভ্যানচালক নুরু ও হিজড়া জুঁইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন ধরেনি। জানতে চাইলে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.