প্রেমিকের সাথে পালানোর সময় জ্ঞান হারালেন প্রেমিকা, উপায় না পেয়ে প্রেমিকের কান্ড

প্রেমিকের সাথে পালানোর সময় জ্ঞান হারালেন প্রেমিকা, উপায় না পেয়ে প্রেমিকের কান্ড

সম্প্রতি এক স্কুল ছাত্রী প্রেমের কারণে প্রেমিকের হাতে প্রয়াত হয়েছেন। তারপর থেকে লা’পাত্তা হয়ে যান সেই কিশোর প্রেমিক। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ঘটনার পর কিছুদিন অতিক্রম করলেও ঐ প্রেমিক এমন কাজ ঘটিয়েছিলেন সেটা কেউ বুঝতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হন। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায়

স্কুলছাত্রী সঞ্চিতা হোসেন সেঁজুতি প্রয়াতের ছয় দিন পর প্রেমিক আবদুর রহমানকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) সকালে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে তাকে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়। প্রয়াত সঞ্চিতা হোসেন সেঁজুতি জালালাবাদের মাস্টারপাড়া গ্রামের পলাশ হোসেনের মেয়ে। তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গ্রে’ফতারকৃত প্রেমিক আবদুর রহমান

কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। সে কলারোয়া হাবিবুল ইসলাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। জানা গেছে, প্রয়াত সেঁজুতির সঙ্গে আবদুর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গ্রে’ফতার আব্দুর রহমান ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান,

সেঁজুতির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও সম্প্রতি সেঁজুতি অন্য একটি ছেলের প্রেমে পড়েছিলেন। বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। এরপর সে সেঁজুতিকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। একপর্যায়ে ২৬ মার্চ রাতে আবদুর রহমান সেঁজুতিকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

এসময় পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কা’টাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবদুর রহমান সেঁজুতিকে ধাক্কা দিলে, পাশের বাড়ির দেয়ালে লাগে, তখন সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফিরাতে না পেরে, আবদুর রহমান ঘটনা ধামাচাপা দিতে সেঁজুতিকে শ্বা’সরোধ করেন। পরে প্রতিবেশী আলাউদ্দিন সরদারের বাগানের ড্রেনে নি”থর দেহ ফেলে দেওয়া হয়। তিনিও স্বীকার করেন যে তিনি একাই নি’থর দেহ ফেলেন।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, আটক আব্দুর রহমানকে রোববার (৩ এপ্রিল) রাতে কলারোয়া পৌরসভার আফজাল মোড় এলাকা থেকে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, আবদুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেঁজুতির নিথর দেহ উপজেলার জালালাবাদ মাস্টারপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন সরদারের বাগানের ড্রেন থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সেঁজুতির মা লায়লা পারভীন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আ’সামি করে কলারোয়া থানায় একটি মা’মলা দায়ের করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আ’সামি আদালতে সমস্ত বিষয় স্বীকার করেছেন। আদালত তার জবানবন্দি নিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আসামি কিশোর হওয়ার কারনে বিচারের বিষয়টি হয়তো কিশোর ট্রাইব্যুনালে চলে যেতে পারে। তারপরও এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এখন ক্ষ’তিগ্রস্ত পরিবারকে আদালতের রায়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.