গর্ভবতী স্ত্রী নয়, পুলিশ সদস্যের বাইকের পেছনে যা ছিল অবষেশে জানা গেলো

গর্ভবতী স্ত্রী নয়, পুলিশ সদস্যের বাইকের পেছনে যা ছিল অবষেশে জানা গেলো

দেশজুড়ে: কপালে টিপ পরা নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে

পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেক বিরুদ্ধে। গত শনিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে

উত্ত্যক্তের শিকার হন তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার। এ ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

ইতিমধ্যে ঘটনাটি এখন দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত । শিক্ষিকার সঙ্গে এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় উত্তপ্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। নারী-পুরুষ

নির্বিশেষে সর্বস্তরের শিল্পী-কুশলী কপালে টিপ লাগানো ছবি পোস্ট করে যার যার মতো করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ঠিক যখন নারীর প্রতি তার সহিংস

আচরণে প্রতিবাদের এমন ঝড় বইছে তখনই হঠাৎ করেই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছিলেন,

ঘটনার সময় নাজমুলের মোটরসাইকেলের পেছনে তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী-ও ছিলেন। মূলত তার গায়ে ধাক্কা লাগার জেরেই শিক্ষক লতা সমাদ্দারের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা

শুরু হয় নাজমুলের। এদিকে, ২ এপ্রিল ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর ৪ এপ্রিল নাজমুলকে শনাক্ত করে ডিএমপি। ইতোমধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শুরু হয়েছে অভিযোগের তদন্ত। বিভিন্ন গনমাধ্যমে বলা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে কনস্টেবল নাজমুলকে শনাক্তের জন্য মাঠে নামে পুলিশ। এক পর্যায়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে অনুসরণ করে তার নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়। রবিবার রাতে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল দাবি করেন, বিষয়টি এত বড় হয়ে যাবে তা তিনি জানতেন না। শনাক্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে নাজমুল একজন নারীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার কথা স্বীকার করেন। তবে তখন ঘটনাস্থলে তার স্ত্রীর উপস্থিতির বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

পরে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কনস্টেবল নাজমুল বলেন, সেদিন বাসা থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যাওয়ার সময় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যান। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ব্যাপক যানজটের কারণে সেদিন ফার্মগেটের পূর্বপাশ দিয়ে না গিয়ে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। মোটরসাইকেলে বসা তার স্ত্রীর পা ওই নারী শিক্ষিকার গায়ে লাগে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। নাজমুলের এই দাবি তদন্তকারীদের বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরবর্তীতে তার স্ত্রীকে ডেকে আনা হয়। স্ত্রীও একই কথা বলেন। পরবর্তীতে দুজনের বক্তব্য আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারকে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা নাজমুলের বাসা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত প্রত্যেকটি সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন। এতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে নাজমুলের স্ত্রী ছিলেন না। এতে প্রমাণিত হয়, কনস্টেবল নাজমুল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন। সিসি ফুটেজসহ তথ্য-প্রমাণ হাজির করা হলে তখন নাজমুল তদন্তকারীদের কাছে অভিযোগ স্বীকার করেন। তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এদিকে, নাজমুলের এই মিথ্যা দাবির পক্ষে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয় একটি পক্ষ। তাদের দাবি, ঘটনার সময় অভিযুক্ত কনস্টেবলের মোটরসাইকেলে তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ছিলেন।

কিন্তু গণমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ে এই দাবির কোনো প্রমাণ মেলেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গনমাধ্যমে জানায়, সেদিন ঘটনার পর নাজমুল মোটরসাইকেল চালিয়ে ইন্দিরা রোড-খামারবাড়ি হয়ে তালতলায় যান। যা ধরা পড়ে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরায়। সেসব ক্যামেরার কোনো ফুটেজেই নাজমুলের পেছনে কোনো আরোহীকে দেখা যায়নি। পুলিশ বলছে, ‘‘ফেসবুকে যারা পোস্ট দিচ্ছেন তারা মোটরসাইকেলে ঝোলানো হলুদ একটি ব্যাগকে তার স্ত্রী বানিয়ে দিচ্ছেন।’’বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন জনপ্রিয় সাংবাদিক হারুন উর রশিদও। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, কনস্টেবল নাজমুল কিংবা তার পক্ষে দাঁড়ানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা মূলত মিথ্যাচারই করেছেন।২ এপ্রিল সকালে কর্মস্থলের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি “টিপ পরছোস কেন” বলে কটূক্তি করেন তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে। প্রতিবাদ জানালে লতার পায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই পুলিশ সদস্য।


Leave a Reply

Your email address will not be published.