যে কারণে সেই পুলিশের মোটরসাইকেল নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়েছিল

যে কারণে সেই পুলিশের মোটরসাইকেল নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়েছিল

দেশজুড়ে: কপালে টিপ পরা নিয়ে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় শিক্ষিকা লতা সমাদ্দারকে হেনস্তার ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল

তারেকের মোটরসাইকেলটি তার নামেই রেজিস্ট্রেশন করা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রথমে খবর বেরিয়েছিল নাজমুল তারেক

ঘটনার দিন চোরাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। কিন্তু এমনটি হওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশ বলছে, ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লতা সমাদ্দারের

করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) মোটরসাইকেলের পুরো নম্বর ছিল না। জিডিতে মোটরসাইকেলের নম্বর ‘হ’ সিরিয়ালের ১৩৩৯৭০ বলে উল্লেখ

করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত নাজমুল তারেকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর হলো ‘যশোর ল ১৩-৩৯৭০’। মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগর থানার ওসি উৎপল

বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, জিডিতে উল্লেখ করা নম্বর ধরে তদন্তের পর মোটরসাইকেলের মালিক মিরপুরের। ওই ব্যক্তি জানান, তার মোটরসাইকেল আগেই চুরি হয়েছে

এবং তিনি জিডির কপি দেখান। আর এরপর থেকেই নাজমুল তারেক চোরাই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন বলে খবর বের হয়। ওসি উৎপল বড়ুয়া আরও বলেন, পরে পুলিশ

জানতে পারে মোটরসাইকেলটির মালিক নাজমুল তারেক নিজেই। কারণ, জেলা ও মহানগরে একই নম্বরে দুটি নম্বর থাকতে পারে। ১০০ সিসির ওপরে হলে ‘ল’ সিরিয়াল এবং নিচে হলে ‘হ’ সিরিয়ালে রেজিস্ট্রশন করা হয়। নাজমুল তারেককে শনাক্ত করার পর দেখা যায় তার মোটরসাইকেলের নম্বর, ‘যশোর ল ১৩-৩৯৭০ নম্বর’। এটি তার নামেই রেজিস্ট্রেশন করা।

এদিকে, ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেককে বরখাস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার (২ এপ্রিল) শেরে বাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার। থানায় দেওয়া অভিযোগে লতা সমাদ্দার লিখেছেন, শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসা থেকে রিকশায় ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমার সামনে নামেন। সেখান থেকে হেঁটে তেজগাঁও কলেজে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

তখন সেজান পয়েন্টের সামনে থেমে থাকা একটি মোটরসাইকেলের ওপর পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি বসে ছিলেন। ওই মোটরসাইকেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ওই ব্যক্তি লতার কপালে টিপ পরা নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। এক পর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি। পেছনে ফিরে ঘটনার প্রতিবাদ করায় ফের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় লতাকে। তাকে উদ্দেশ্য করে ‘টিপ পরছোস কেন’ মন্তব্য করেন ওই ব্যক্তি। লতার অভিযোগ, তিনি প্রতিবাদ করায় পুলিশের ওই সদস্য মোটরসাইকেল চালিয়ে তার গায়ের ওপর উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সরে গিয়ে রক্ষা পেলেও আহত হন তিনি। পরে পাশেই দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে তিনি বিস্তারিত জানান। এরপরই তাকে জিডি করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.