অবশেষে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার নবাগত সেই ওসি ক্লোজড


‘পুলিশ ব্যতীত কেউ মহাসড়কে চাঁদাবাজি করলে দায় নিবে না পুলিশ’ এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-

সমলোচনা হওয়ার পর ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এস এম আসাদুজ্জামানকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে মাদারীপুর হাইওয়ে রিজিওনাল অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ফরিদপুরের হাইওয়ে পুলিশ সুপার শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সকালে ক্লোজ হওয়ার আদেশ পাওয়ার পর তিনি ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয় হাজিরা দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই সেই ওসিকে ক্লোজ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে সল্প সময়ের দায়িত্ব নেয়া ওসি এ এস এম আসাদুজ্জামান বলেন,

অতীতে থানার ওসির দায়িত্বে থেকে যারা বিভিন্ন পরিবহন, ব্যানার, টোকেন বা মান্থলি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বা তাদের নামের উৎকোচ আদায় হতো, আজ থেকে বন্ধ বলে ঘোষণা করছি।

যদি অত্র থানার কোনো পুলিশ সদস্য এর সঙ্গে জড়িত থাকেন তাহলে তার দায়-দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। মহাসড়কে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না বলে অঙ্গীকার করছি।

তবে বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত মোটরযান চালানো বা মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যতীত তিনজন আরোহী ও অবৈধ থ্রি হুইলারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেষ দুই লাইনে লেখা ছিল, ‘হাইওয়ে থানা পুলিশ ব্যতীত অন্য কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি মহাসড়কে চাঁদাবাজি করলে তার দায়-দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশ নেবে না’।

এ ব্যাপারে সেই ওসি এ এসএম আসাদুজ্জামানের বলেছিলেন, এখানে হয়তো ভাষাগত ভুল হয়েছে। আপনারা একটু ঠিক করে নিয়েন।

বর্তমানে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে আছেন সাব-ইন্সপেক্টর শাহ আলম। তাঁর সঙ্গে কথা হয় বার্তা বাজারের।

এ ব্যাপারে থানার দায়িত্বে থাকা নতুন ওসি বলেন, এই দুই লাইন নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে চাঁদাবাজি বলতে বুঝানো হয়েছে পুলিশের নাম করে যেন চাঁদাবাজি না করতে পারে তৃতীয় কোন ব্যক্তি বা পক্ষ। বিষয়টি ভুল বুঝাবুঝি ছাড়া কিছুই না।

তিনি আরও বলেন, আমি গতকাল থেকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি। আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মহাসড়কে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। ইদ উপলক্ষে মহাসড়কে সকল যানবাহন যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সেজন্যও আমাদের টহল জোরদার থাকবে। এছাড়াও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি আমরা।

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের ফরিদপুর-মাদারীপুর রিজিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার(ফরিদপুর সার্কেল) এএসপি নুরুল ইসলাম বলেন, উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা এবং অসংগতি কথা বলায় তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। এটা মিস ম্যানেজমেন্ট।

মাদারীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশ সুপার(এসপি) হামিদুল আলমের বার্তা বাজারকে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণ ছাড়া ও কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে সংবাদ সম্মেলন করায় এ এস এম আসাদুজ্জামানকে রিজিওনাল অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের বিতর্কিত সেই শেষ দুই লাইন নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, আগের ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহারের পর তার স্থলে এ এস এম আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দায়িত্ব নেয়ার আগেই সংবাদ সম্মেলন করেন। অবশ্য এখানে তার ভালো ইনটেনশন ছিল। তিনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বুঝাতেই এ সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়টিতেই তিনি বোকামি করে ফেলেছেন। আগে কখনো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি, সেখানেই তার ভুল হয়েছে। মূলত তিনি এক্সপ্লেনেশন করতে ভুল করে ফেলেছেন। তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই এ থানায় নতুন ওসি যুক্ত করা হবে।

সুত্রঃ বার্তা বাজার


Leave a Reply

Your email address will not be published.