ইমরান খানের পতন ঘটালেন যাঁরা

ইমরান খানের পতন ঘটালেন যাঁরা

আন্তর্জাতিক: অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর ক্ষমতা হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গতকাল শনিবার মধ্যরাতে এই অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় পরিষদের ৩৪২ জন সদস্যের মধ্যে ১৭৪ জন সদস্যই ইমরান খানের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে ভোট দেন। তবে ইমরান খানের প্রতি এই অনাস্থা ভোটের আয়োজনে কাদের ভূমিকা রয়েছে সেটি নিয়ে চলছে আলোচনা।

শাহবাজ শরিফ: পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ দুর্নীতি সংক্রান্ত দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে লন্ডনে চলে যাওয়ার

পরই তার দল পিএলএম-এন পরিচালনার দায়িত্ব পান শাহবাজ। ইমরান সরকারের পতন হওয়ার পর প্রধান বিরোধী দলনেতা শাহবাজ শরিফকে অভিনন্দন জানান সদ্য স্পিকারের আসনে বসা আয়াজ সাদিক। ধারণা করা হচ্ছে এই শাহবাজই পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

৭০ বছর বয়সী শাহবাজ পাঞ্জাবের তিন তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। শাহবাজ পারিবারিকভাবে ধনী ব্যবসায়ী এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন-র (পিএমএল-এন) বর্তমান প্রেসিডেন্ট। দেশের বাইরে শাহবাজ ততটা পরিচিত নন। লন্ডন ও দুবাইয়ে বিলাসবহুল বাড়ি থাকার কারণে খবরের শিরোনাম হলেও দেশের ভেতরে প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য শাহবাজের সুনাম রয়েছে।

আসিফ আলি জারদারি: আসিফ আলি জারদারি হলেন পাকিস্তানের ১৪তম প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির সহ-সভাপতি। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো তার স্ত্রী। বেনজির ভূট্টোর দ্বিতীয় দফা শাসনামলে জারদারি পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রীও ছিলেন। ৬৭ বছর বয়সী আসিফ জারদারি ২০০৭ সালে বেনজির ভুট্টো নিহত হওয়ার পর পিপিপির হাল ধরেন। ২০০৮ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে দুর্নীতি এবং খুনের মামলায় জারদারি ১১ বছর জেলে কাটিয়েছেন। কিন্তু কোন মামলাতেই দোষী প্রমাণিত হননি। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারগুলোর একটি হচ্ছে ভুট্টো পরিবার। গত পাঁচ দশকে তারা বেশ কয়েক দফায় পাকিস্তানের ক্ষমতায় ছিল।

বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি: বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলি জারদারির ছেলে হলেন বিলাওয়াল ভুট্টো। সন্ত্রাসী হামলায় তার মা বেনজির ভুট্টো নিহত হওয়ার পর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পিপিপির চেয়ারম্যান হন তিনি। অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা ৩৩ বছর বয়সী বিলাওয়াল ভুট্টো একজন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে পরিচিত। প্রায়ই নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন তিনি।

মাওলানা ফজলুর রহমান: ফজলুর রহমান পাকিস্তানের জামিয়াতুল উলামা-ই ইসলামের (এফ) বর্তমান সভাপতি। ১৯৮৮ সাল থেকে বর্তমান পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য তিনি। হাজার হাজার মাদ্রাসা ছাত্রদের একত্রিত করার ক্ষমতা থাকলেও, তার জামিয়াতুল উলেমা-ই-ইসলাম (এফ) পার্টি কখনই নিজের ক্ষমতার জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে পারেনি, তবে সাধারণত যে কোনও সরকার গঠনের মূল খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করে। সূত্র: আল-জাজিরা


Leave a Reply

Your email address will not be published.