কানাডায় বিদেশিদের কাছে বাড়ি বিক্রি বন্ধ, নেপথ্যে বাংলাদেশিরাও!

কানাডায় বিদেশিদের কাছে বাড়ি বিক্রি বন্ধ, নেপথ্যে বাংলাদেশিরাও!

আগামী দুই বছরে বিদেশিদের কাছে বাড়ি বিক্রি করবে না কানাডা সরকার। তবে কানাডায় পড়াশোনা করছেন এমন শিক্ষার্থী,

কানাডীয় প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী এবং সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের ওপর বাড়ি কেনার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

বিষয়টি দেশটির অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের বাজেট পরিকল্পনায় আছে বলে খবর ছেপেছে ব্লুমবার্গ। গত দুই বছরে কানাডায় বাড়ির

দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। ব্যাংক অব কানাডা সুদের হার বাড়ানোর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন শহরে রেকর্ড সংখ্যক বাড়ি বিক্রি হয়েছে।

ফুলেফেঁপে উঠেছে কানাডার হাউজিং মার্কেট। এর পেছনে দায়ী করা হচ্ছে বাইরে থেকে দেশটিতে পাচার হওয়া অবৈধ অর্থকে। কালো টাকাকে সাদা

করতে বিভিন্ন দেশের দুর্নীতিবাজদের অন্যতম পছন্দ কানাডায় বাড়ি কেনা। এবার তা থামাতে আগামী দুই বছর বিদেশিদের কাছে বাড়ি বিক্রি বন্ধে নতুন

আইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা। আশা করা হচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে কমে আসবে কানাডার বাড়ির মূল্য। এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সামনে আসায় আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশিরাও। বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, কানাডার হাউজিং খাতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে এক শ্রেণির বাংলাদেশির অবদান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী প্রবাসীদের বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি নগদ অর্থ দিয়ে বাড়ি কিনেছেন বলে এর আগে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, এসব সম্পত্তির বেশির ভাগই কেনা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ দিয়ে।

ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের বাজেটে স্থান পাচ্ছে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি। এর মধ্য দিয়ে উন্নত বিশ্বের কোনো দেশের ব্যয়বহুল হাউজিং মার্কেটকে বশে আনতে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কঠোর অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। হাউজিংয়ের খরচ ও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে এরই মধ্যে চাপে রয়েছে তাঁর সরকার। নতুন এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে ট্রুডো এই রাজনৈতিক চাপকে গুরুত্বের সঙ্গেই নিচ্ছেন। ব্লুমবার্গ বলছে, কানাডার হাউজিং ব্যয় এত বৃদ্ধির পেছেন দায়ী করা হয় ব্লাইন্ড বিডিংকেও। দেশটিতে একটি পদ্ধতি রয়েছে, যাতে যে কেউ অর্থের পরিমাণ গোপন রেখে নিলামের মাধ্যমে বাড়ি কিনতে পারে। এ কারণে যার কাছে অর্থ রয়েছে সে বাজারের দামের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিয়েও বাড়ি কিনছে। তবে এবার এই পদ্ধতি বাতিল চায় কানাডিয়ান রিয়াল স্টেট অ্যাসোসিয়েশন।


Leave a Reply

Your email address will not be published.