টিপকাণ্ড ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মন্তব্যে তোলপাড়

টিপকাণ্ড ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মন্তব্যে তোলপাড়

এবার টিপকাণ্ড আর দ্রব্যমূল্য নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম। রবিবার (১০ এপ্রিল) নীলফামারী জেলার আইনশৃঙ্খলা

কমিটির মাসিক সভায় চুরির ঘটনা বাড়ার প্রসঙ্গ উঠলে তার করা মন্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ করেন সভায় উপস্থিত অন্যরা। নীলফামারী জেলা প্রশাসককের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা কান্তিভূষণ কুণ্ডু চুরির ঘটনা বাড়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ির টিউবওয়েলের হেড (হাতলসহ মাথা) চুরি হচ্ছে।

মাদকাসক্তদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও ওসি মামলা নেন না। মাদকাসক্তরা ওই সব চুরিতে জড়িত।’ মুক্তিযোদ্ধা কান্তিভূষণ কুণ্ডু আরও বলেন,

চুরি নিয়ে কথা বলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন- ‘দেশের মানুষের মানসিকতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, আজ তারা কপালের টিপ নিয়ে হইচই করেন। সেখানে চুরির ঘটনাতো বাড়তেই পারে।

দিন দিন নিত্য পণ্যের দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির কারণে টিউবওয়েলের হেড চুরি হতেই পারে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না এলে চুরি আরও বাড়তে পারে।’ এ সময় সভায় উপস্থিত অন্যরা এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তারা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, আপনি সরকারের পুলিশ বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে এমন ব্যাখ্যা দিতে পারেন না। যা বললেন তা সঠিক নয়। আমরা আপনার এমন ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারি না। এক পর্যায়ে তিনি তার ওই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য বাড়ার বিষয়ে উনি এ কথা বলতে পারেন না, মাদকের সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বাড়ার সম্পর্ক নেই। তিনি নিজের দায় এড়াতে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। আর টিপ নিয়ে সভায় কোনও সদস্যই কোনও কথা বলেননি। ওই কর্মকর্তাকে নিয়ে আমাদের সন্দেহ যে, তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছেন নাকি অন্য কারও এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।’ তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সভায় মানুষের নৈতিকতার স্খলনের কথা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে কোনও কথা বলিনি। আমি বলেছি- রডের দাম বাড়ার কথা। রডের দাম বাড়ায় টিউবওয়েলের হেড চুরি হওয়ার কথা বলেছি।’ এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমি ওই সভায় উপস্থিত ছিলাম না। এ কারণে না জেনে কিছু বলতে পারবো না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

তবে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, ‘সব জিনিসপত্রের দাম বেশি এটা ঠিক না, বিতর্ক সৃষ্টি করে এমন কোনও কথা সরকারি কর্মকর্তাদের না বলাই ভালো। যদিও পরে উনি তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।’ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, জলঢাকা পৌরসভার মেয়র ইলিয়াছ হোসেন বাবলু, ডিমলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম, রেলওয়ে পুলিশের সার্কেল কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই আলম সিদ্দিকী, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি তাহমিন হক প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল টিপ পরা নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ শিক্ষিকা ড. লতা সমাদ্দারকে হেনস্তার ঘটনা ঘটান পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেক। এ ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠে। বিভিন্ন মহল থেকে ওই পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করা হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.