ষ’ড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে নির্বাচনে আসুন: বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের

ষ’ড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে নির্বাচনে আসুন: বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের

রাজনীতি: ক্ষমতা দখলের নেশায় দেশ ও গণবিরোধী ‘ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত না থেকে বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা পরিবর্তনের উপায় হিসেবে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তবে তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য হবে শুভ লক্ষণ। সোমবার এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে বলব, নির্বাচনে যদি বিশ্বাস করেন, জনগণের উপর যদি আস্থা থাকে- তবে ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। আশা করি, বিএনপির শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’

বিএনপির শাসনামলে নির্বাচন পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে নির্বাচন মানে মাগুরা মার্কা নির্বাচন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের পাশাপাশি ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভুয়া ভোটার সৃষ্টি।

তাদের কাজই হচ্ছে. অপতৎপরতায় লিপ্ত থেকে দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জাতির কপালে একের পর এক কলঙ্কের তিলক পরানো। বিএনপি নির্বাচনের নামে আসলে কী চায়, সেটা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের ধারাবাহিক সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব দাবি করেছেন যে, তারা নাকি নির্বাচনে বিশ্বাস করেন। জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এটা কি তাদের মনের কথা! কারণ তারা একদিকে বলছে নির্বাচনে বিশ্বাস করে, অন্যদিকে ক্ষমতা দখলের নেশায় দেশ ও গণবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।’

বিএনপি নেতারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি তুলেছেন, বিএনপি নেতারা বারবার বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া না কি দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন মীমাংসিত একটি বিষয়। কাজেই নতুন করে এ নিয়ে কোনো দুঃস্বপ্ন দেখে লাভ নেই। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সরকার শুধু নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুঃসময়ের কথা বলে দেশের জনগণকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। আসলে দেশে কোনো দুঃসময় নেই, দুঃসময় যাচ্ছে বিএনপির রাজনীতিতে। তাদের নেতাকর্মীরা এখন হতাশ। শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা নিয়ে তারা সন্দিহান।’

তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে মুক্তির নাকি একটাই পথ; জিয়াউর রহমানের দেখানো পথে গিয়ে একটা ঘটনা ঘটানো। জিয়াউর রহমান তো হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সমাধি রচনা করে তার ওপর পাকিস্তানি ভাবধারার বীষবৃক্ষের বীজ বপন করেছিলেন, অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিলেন। জনগণ তাই শঙ্কায় আছে, না জানি বিএনপি কখন কী দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে। কারণ, বিএনপির ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুন্ঠিত করার ইতিহাস, গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে লুন্ঠন ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েমের ইতিহাস।’


Leave a Reply

Your email address will not be published.