বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র যে পাঁচটি বিষয় দেখতে চায়

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র যে পাঁচটি বিষয় দেখতে চায়

নিউজ ডেষ্ক- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ মরিয়া চেষ্টা করছে। আর এই সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এক ধরনের আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন।

যদিও এটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। তারপরও মনে করা হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট আগ্রহী। বিশেষ করে

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা, শ্রীলঙ্কার টানাপোড়েন ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্কের যে অস্বস্তি সেগুলো কাটিয়ে ফেলতে চায়। তবে এই অস্বস্তি কাটিয়ে উঠার ক্ষেত্রে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট পাঁচটি বিষয় চাওয়া রয়েছে বলে জানা গেছে। ব্লিংকেনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে এবং পরবর্তী পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী ফোরামের আলাপ-আলোচনায় সুস্পষ্ট হয়েছে

বাংলাদেশের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন পাঁচটি আগ্রহের ব্যাপার রয়েছে। এর মধ্যে: ১. অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র চায়।

বিশেষ করে আগামী নির্বাচন যেন সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু হয়, সেটির ব্যাপারে তাদের আগ্রহ রয়েছে। তবে নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, কিভাবে হবে এটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। তারা চায় যে, সকল রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।

২. মানবাধিকার সুরক্ষা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আগ্রহের জায়গা হলো বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষা রাখা। এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন ৭ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং এই নিষেধাজ্ঞার পর তারা ইতিবাচক ফল পাচ্ছে বলেও মনে করেন। এছাড়াও বাংলাদেশে যারা কথিত গুম হয়েছেন তাদের ব্যাপারেও সুস্পষ্ট তথ্য চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তারা মনে করে যে, বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা দরকার। মানবাধিকার ইস্যুটি তাদের কাছে একটি বড় বিষয় হিসেবে কাজ করছে সাম্প্রতিক সময়ে।

৩. ধর্মীয় সহিষ্ণুতা: বাংলাদেশের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা দেখতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বিভিন্ন সময় যে নির্যাতনের অভিযোগ গুলো উঠেছে সেই অভিযোগগুলোর ব্যাপারে রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট হস্তক্ষেপ, তদন্ত এবং নির্মোহ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে এটাকে এগিয়ে নিতে হবে।

৪. উগ্রবাদ, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে কোন অবস্থাতে উগ্রবাদ, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের মত দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ধারার উত্থান ঘটুক এটি চায় না। এটি বন্ধের জন্য তারা বাংলাদেশকে বিভিন্ন রকমের সহযোগিতা করতেও আগ্রহী। সাম্প্রতিক সময়ে, আফগানিস্তানে তালেবানদের সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার প্রেক্ষিতে এই অঞ্চলে কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে কোনভাবেই যেন উগ্রবাদ, মৌলবাদীগোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠতে না পারে, সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় মাথাব্যথার কারণ বড়।

৫. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি বিষয় হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মুক্ত স্বাধীন গণমাধ্যম। এই জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সংশোধন করা দরকার, পারলে এটাকে বাতিল করা দরকার। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি তারা নিরীক্ষা করবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করবো।

সুত্রঃ “banglainsider (বাংলা ইনসাইডার) থেকে হুবাহু কপি”


Leave a Reply

Your email address will not be published.